দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ জুন ২০২৬ , ০৬:৪৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নতুন অর্থবছর
২০২৬-২৭ সালের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ
ব্যাংক। আগামীকাল মঙ্গলবার বিকেলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এ মুদ্রানীতি প্রকাশ
করা হবে। দেশের মূল্যস্ফীতি এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে না আসায় এবং অর্থনীতিতে বিদ্যমান
চাপের কারণে এবারও সতর্ক ও কঠোর অবস্থান ধরে রাখার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয়
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংকোচনমূলক
মুদ্রানীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হতে পারে। এর অংশ হিসেবে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে
অপরিবর্তিত রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার
(৩০ জুন ২০২৬) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের জাহাঙ্গীর আলম কনফারেন্স হলে গভর্নর মো.
মোস্তাকুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন।
এর আগে বাংলাদেশ
ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় মুদ্রানীতির খসড়া অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন অর্থবছরের বাজেট বাস্তবায়ন, বিভিন্ন প্রণোদনা কার্যক্রম, তারল্য
সহায়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রা ক্রয়ের ফলে বাজারে অতিরিক্ত অর্থপ্রবাহ তৈরি হতে পারে। এতে
মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা থাকায় সুদহার কমিয়ে সহজ মুদ্রানীতিতে যাওয়ার সুযোগ
সীমিত বলে মনে করছে তারা।
সরকার নতুন
অর্থবছরের বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬
দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী,
দেশে মূল্যস্ফীতি এখনো ৯ শতাংশের বেশি রয়েছে। মে মাসে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯ দশমিক
৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৯ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং খাদ্যবহির্ভূত
মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৭১ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের
একাংশ মনে করছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে উচ্চ সুদহার বজায় রাখা প্রয়োজন। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট
অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) মহাপরিচালক ড. এজাজুল ইসলাম বলেন, মূল্যস্ফীতি
নিয়ন্ত্রণে মুদ্রানীতি কঠোর রাখা ছাড়া আপাতত বিকল্প নেই। রাজস্বনীতি সম্প্রসারণমুখী
হলে মুদ্রানীতি সহজ করা হলে মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়তে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তবে ভিন্ন
মত রয়েছে কিছু অর্থনীতিবিদের। পলিসি থিঙ্ক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ সেন্টারের চেয়ারম্যান
মো. মাজেদুল হক মনে করেন, শুধু সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়।
বাজার ব্যবস্থাপনা, করনীতি সংস্কার এবং সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নয়নেও সমান গুরুত্ব দেওয়া
প্রয়োজন। তার মতে, উচ্চ সুদহারের কারণে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে গেছে, যা বিনিয়োগ
ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
উল্লেখ্য,
২০২৪ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি
গ্রহণ করে নীতি সুদহার বাড়িয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ঘোষিত
মুদ্রানীতিতেও এই হার অপরিবর্তিত রাখা হয়।
এ ছাড়া স্ট্যান্ডিং
ল্যান্ডিং ফ্যাসিলিটির (এসএলএফ) হার ১১ দশমিক ৫ শতাংশ এবং স্ট্যান্ডিং ডিপোজিট ফ্যাসিলিটির
(এসডিএফ) হার সাড়ে ৭ শতাংশে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, অর্থনীতির নানা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে নতুন অর্থবছরের শুরুতেই একটি বাস্তবসম্মত ও সময়োপযোগী মুদ্রানীতি দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দেশজুড়ে/সবুজ