ক্ষুদ্র আমানতেই শক্তি পাচ্ছে ব্যাংক খাত, মোট আমানতের ৯২% এক কোটির নিচে

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬ , ১২:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দেশের ব্যাংক ­­খাতের মূল ভিত্তি হয়ে উঠেছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি আমানতকারীরা। ছোট ছোট সঞ্চয়েই বাড়ছে ব্যাংকের আমানত, যা খাতটিকে স্থিতিশীল রাখছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশের মোট ব্যাংক আমানতের ৯২ শতাংশই এক কোটি টাকার কম জমা রয়েছে এমন হিসাবধারীদের। বিপরীতে এক কোটি টাকার বেশি আমানত রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ হিসাবে।

 

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২ লাখ টাকার কম আমানত রয়েছে এমন গ্রাহকদের অংশ মোট আমানতের ১৩ শতাংশ। আর ২ লাখ থেকে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানতই দখল করে আছে সর্বোচ্চ ৫৫ শতাংশ। এতে স্পষ্ট, দেশের ব্যাংকিং খাত মূলত সাধারণ মানুষের সঞ্চয়ের ওপর নির্ভরশীল।

 

এ বিষয়ে ব্যাংকারদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ-এর সাবেক চেয়ারম্যান ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, খুচরা আমানতই ব্যাংকের জন্য সবচেয়ে স্থিতিশীল। এসব আমানত সহজে একবারে তুলে নেওয়া হয় না এবং সুদের হারও তুলনামূলক কম থাকে, ফলে ব্যাংকের ভিত্তি মজবুত হয়।

 

আমানতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি

২০২৫ সালে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও ব্যাংক আমানতে ১১.৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে। ২০২৪ সালের শেষে যেখানে মোট আমানত ছিল ১৮ লাখ ৮৩ হাজার ৭০০ কোটি টাকা, তা ২০২৫ সালের শেষে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২১ লাখ ৫০০ কোটি টাকায়।

 

অন্যদিকে ঋণের প্রবৃদ্ধি তুলনামূলক কম, যা দাঁড়িয়েছে ৫.৬ শতাংশে। ২০২৪ সালের শেষে মোট ঋণ ছিল ১৬ লাখ ৮২ হাজার ৯০০ কোটি টাকা, যা বেড়ে হয়েছে ১৭ লাখ ৭৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা।

 

কোন খাতে কত বৃদ্ধি

প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, প্রথম প্রজন্মের বেসরকারি ব্যাংক এবং রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো আমানত বৃদ্ধিতে এগিয়ে রয়েছে। প্রথম প্রজন্মের ব্যাংকগুলোতে আমানত বেড়েছে ১৫.৩ শতাংশ এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোতে ১১.৬ শতাংশ।

 

ব্যক্তিগত বা গৃহস্থালি আমানতেও বড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এক বছরে এই আমানত ১০ লাখ ৩৪ হাজার ১০০ কোটি টাকা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ লাখ ৮০ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়, যা ১৪.২ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে।

 

ছোট আমানতেই বড় অবদান

আমানতের আকারভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়

 

২ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা

২ লাখ ১ টাকা থেকে ২৫ লাখ টাকার আমানত বেড়ে হয়েছে ৬ লাখ ৫২ হাজার ২০০ কোটি টাকা

২৫ লাখ থেকে ৫০ লাখ টাকার আমানত দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৭ হাজার ৩০০ কোটি টাকা

৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকার আমানত বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা

 

অন্যদিকে, এক কোটি টাকার বেশি আমানতের অংশ তুলনামূলক কম এবং কিছু ক্ষেত্রে হ্রাসও পেয়েছে।

 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ডিজিটাল ব্যাংকিং সম্প্রসারণ ও প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ফলে ছোট আমানতকারীদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা দেশের ব্যাংক খাতকে আরও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করাচ্ছে।

 

দেশজুড়ে/সবুজ