দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ মে ২০২৬ , ০৫:৩২ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) খাত টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শিল্পায়নে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছে। সম্প্রতি আরও ৪টি কারখানা আন্তর্জাতিক স্বীকৃত ‘লিড’ (LEED) সনদ অর্জন করায় দেশে এ ধরনের কারখানার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৮৪টিতে। এর মধ্যে ১২১টি প্লাটিনাম এবং ১৪৪টি গোল্ড রেটিংপ্রাপ্ত।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিশ্বের সর্বোচ্চ স্কোরপ্রাপ্ত শীর্ষ ১০০ লিড কারখানার তালিকায় এখন বাংলাদেশের অবস্থান ৫২টিতে উন্নীত হয়েছে, যা বৈশ্বিক পরিসরে দেশের সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিফলন।
নতুন সনদপ্রাপ্ত কারখানাগুলোর মধ্যে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত পাহাড়তলী টেক্সটাইলস লিমিটেড (ইউনিট-০২) ‘লিড বিডি+সি: নিউ কনস্ট্রাকশন ভি৪’ মানদণ্ডে ৮৬ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ পেয়েছে। গাজীপুরের শ্রীপুরে অবস্থিত ওয়েলডান অ্যাপারেল লিমিটেড ‘লিড ও+এম: এক্সিস্টিং বিল্ডিংস ভি৪.১’ মানদণ্ডে ৭৫ পয়েন্ট পেয়ে গোল্ড সনদ অর্জন করেছে।
এ ছাড়া ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় অবস্থিত এভারব্রাইট সোয়েটার লিমিটেড ৮৩ পয়েন্ট অর্জন করে প্লাটিনাম সনদ লাভ করেছে। একইভাবে গাজীপুরের সুরাবাড়িতে অবস্থিত সিয়াম কম্পিউটারাইজড ইলাস্টিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (মামটেক্স) ৮৪ পয়েন্ট পেয়ে প্লাটিনাম সনদ অর্জন করেছে।
খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি, পানি সংরক্ষণ, কার্বন নিঃসরণ হ্রাস এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পোশাক খাত এখন বিশ্বে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। লিড সনদপ্রাপ্ত কারখানার সংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দেশের গ্রহণযোগ্যতা ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী হচ্ছে।
বিজিএমইএর সাবেক পরিচালক ও ডেনিম এক্সপার্ট লিমিটেডের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, টেকসই শিল্পায়নের সূচকে বাংলাদেশ এখন বৈশ্বিক নেতৃত্বের কাতারে অবস্থান করছে। নতুন চারটি কারখানার সংযোজন এই অগ্রযাত্রাকে আরও গতিশীল করেছে।
তিনি আরও জানান, এ ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সবুজ শিল্পায়নের এ অগ্রগতি অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ কেবল উৎপাদন সক্ষমতায় নয়, পরিবেশবান্ধব শিল্প ব্যবস্থাপনাতেও বিশ্বে শীর্ষস্থান ধরে রাখতে পারবে।