দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:২১ এএম
অনলাইন সংস্করণ
পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও সাহ্রিকে
ঘিরে অনেক পরিবারেই বাড়তি আয়োজন থাকে। এতে নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি মাসিক ব্যয়ও বেড়ে যায়। তবে সচেতন পরিকল্পনা ও কিছু বাস্তবসম্মত
কৌশল অনুসরণ করলে রোজায় সংসারের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাজেট ও তালিকা প্রস্তুত জরুরি
রোজা শুরুর আগে সম্ভাব্য কেনাকাটার একটি বাজেট ও তালিকা তৈরি
করলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো যায়। ইফতার ও সাহ্রির
জন্য সাত দিনের সহজ মেনু নির্ধারণ করে সে অনুযায়ী বাজার
করলে অতিরিক্ত কেনাকাটা এড়ানো সম্ভব।
মৌসুমি ও দেশি পণ্যে সাশ্রয়
আমদানি করা ফলের বদলে দেশি ও মৌসুমি ফল
বেছে নিলে খরচ তুলনামূলক কম হয়। সরবরাহ
বেশি থাকায় এসব পণ্যের দামও সাধারণত নাগালের মধ্যে থাকে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পণ্য একসঙ্গে কিনলে পরিবহন ব্যয় কমানো যায়।
ভাজাপোড়া ও বিলাসী খাবার কমানো
ইফতারিতে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া বা দামি খাবারের
বদলে ফল, সালাদ, ডাল ও ঘরে তৈরি
শরবত রাখলে খরচ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি—দুটিই
কমে। পুষ্টিবিদদের মতে, সুষম খাদ্যতালিকা দীর্ঘমেয়াদে উপকারী।
ঘরে তৈরি খাবারে গুরুত্ব
প্যাকেটজাত ইফতারির বদলে বাসায় তৈরি বুট, পেঁয়াজু, বেগুনি বা শরবত খরচ
কমাতে সহায়ক। একবারে বেশি মসলা প্রস্তুত করে সংরক্ষণ করলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়
হয়। বাইরে গেলে সঙ্গে পানি বহন করলে অতিরিক্ত খরচ এড়ানো যায়।
মাংসের বিকল্প বেছে নেওয়া
প্রতিদিন গরু বা খাসির মাংসের
পরিবর্তে মুরগি, ডিম, ডাল, সবজি বা ছোট মাছ
রাখলে বাজেট নিয়ন্ত্রণে থাকে। বৈচিত্র্যপূর্ণ খাদ্যতালিকা পুষ্টির চাহিদাও পূরণ করে।
অপচয় রোধে সচেতনতা
পরিবারের সদস্যসংখ্যা অনুযায়ী পরিমিত রান্না করলে খাবার নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কমে। অবশিষ্ট খাবার সংরক্ষণ করে পরবর্তী সময়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। যৌথভাবে ইফতার আয়োজন করলেও ব্যয় ভাগাভাগি করা সম্ভব।
অফার যাচাই করে কেনাকাটা
চাল, ডাল, তেল, চিনি ইত্যাদি পণ্য অফার বা মূল্যছাড়ে কিনলে
সাশ্রয় হয়। তবে কম দামের পণ্যের
গুণগত মান যাচাই করা জরুরি।
বিদ্যুৎ ও গ্যাস সাশ্রয়
একসঙ্গে রান্না করা, প্রেশার কুকার ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক যন্ত্র বন্ধ রাখা হলে ইউটিলিটি বিল কমানো যায়।
সামাজিক আয়োজনে সংযম
ইফতার মাহফিল বা দাওয়াতে আড়ম্বর
কমিয়ে সীমিত আয়োজন করলে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়।
ঈদ কেনাকাটায় পরিকল্পনা
ঈদের আগে দাম তুলনা করে কেনাকাটা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যয় নির্ধারণ করলে অতিরিক্ত চাপ কমে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রমজান সংযমের মাস। তাই ভোগের চেয়ে প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে চললে এ সময়ে আর্থিক স্বস্তি বজায় রাখা সম্ভব।