প্রবাসীদের জন্য নতুন ব্যাংক হিসাব সুবিধা চালু, বিদেশে অর্থ নেওয়ার সুযোগ

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২৬ , ০৮:৫৭ এএম

অনলাইন সংস্করণ

প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নতুন ধরনের ব্যাংক হিসাব চালুর অনুমোদন দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে দেশের ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটে (ওবিইউ) নন-রেসিডেন্ট কনভার্টিবল টাকা অ্যাকাউন্ট (এনআরসিটিএ) খোলা যাবে। হিসাবের মাধ্যমে জমাকৃত অর্থ এবং সেখান থেকে অর্জিত সুদ বা মুনাফা সহজেই বিদেশে স্থানান্তরের সুযোগ পাবেন হিসাবধারীরা।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা নীতি বিভাগ- সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে দেশের সব তফসিলি ব্যাংক অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, অফশোর ব্যাংকিং আইন, ২০২৪ এবং বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর আওতায় প্রবাসীদের জন্য নতুন সুবিধা চালু করা হয়েছে। এর ফলে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রা "এর মাধ্যমে প্রবাসীরা বৈধ পথে অর্থ পাঠানো, দেশে বিনিয়োগ করা এবং দেশের অর্থনীতিতে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন।"

 

নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রবাসীরা সঞ্চয়ী, চলতি কিংবা মেয়াদি আমানত হিসাব হিসেবে এনআরসিটিএ পরিচালনা করতে পারবেন। এসব হিসাব বৈদেশিক মুদ্রা দেশে এনে টাকায় রূপান্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হবে।

 

হিসাবের অর্থায়নের উৎস হিসেবে বিদেশ থেকে পাঠানো রেমিট্যান্স, ব্যক্তিগত বৈদেশিক মুদ্রা হিসাব বা নন-রেসিডেন্ট ফরেন কারেন্সি ডিপোজিট হিসাব থেকে রূপান্তরিত অর্থ, অন্য এনআরসিটিএ হিসাব থেকে স্থানান্তরিত অর্থ এবং হিসাবে অর্জিত সুদ বা মুনাফা গ্রহণ করা যাবে।

 

এছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ থেকে ফেরত পাওয়া অর্থ, বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত বিনিয়োগের রিটার্ন, নতুন শেয়ার ইস্যুতে আবেদন করে ফেরত পাওয়া অর্থ এবং অনুমোদিত অন্যান্য অর্থও হিসাবে জমা করা যাবে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এনআরসিটিএর মাধ্যমে সংগৃহীত আমানত বিশেষায়িত অঞ্চলের (স্পেশালাইজড জোন) টাইপ- শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে ঋণ হিসেবে দেওয়া যাবে। তবে এসব ঋণ শুধুমাত্র বেতন-ভাতা, মজুরি ইউটিলিটি বিলের মতো চলতি ব্যয় নির্বাহে ব্যবহার করা যাবে এবং তা রপ্তানি আয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।

 

এছাড়া হিসাবের বিপরীতে দেশীয় ব্যাংকিং ইউনিট প্রবাসী বাংলাদেশি বা তাদের মনোনীত ব্যক্তিকে ঋণ সুবিধা দিতে পারবে। তবে কৃষি, বাগানভিত্তিক কার্যক্রম, পুনঃঋণ প্রদান বা আবাসন ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য ধরনের ঋণ ব্যবহার করা যাবে না।

 

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, এনআরসিটিএ আমানত জামানত হিসেবে রেখে নেওয়া ঋণের অর্থ বাংলাদেশে ব্যক্তিগত প্রয়োজন, ব্যবসায়িক কার্যক্রম কিংবা নিজস্ব ব্যবহারের জন্য আবাসিক সম্পত্তি ক্রয়ে ব্যয় করা যাবে। তবে নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে ধরনের বিনিয়োগ থেকে অর্জিত অর্থ বিদেশে প্রত্যাবাসনের সুযোগ থাকবে না।

 

প্রবাসীদের ব্যাংকিং সেবা সহজ করতে ব্যাংকগুলোকে অনলাইনভিত্তিক ইন্টারঅ্যাকটিভ প্ল্যাটফর্ম এবং আধুনিক ইলেকট্রনিক ব্যাংকিং সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে হিসাব পরিচালনা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং কমপ্লায়েন্স কাঠামো সম্পর্কে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে।

 

দেশজুড়ে/ ডেস্ক