দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ জুন ২০২৬ , ০৬:২৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশের রাজস্ব
ঘাটতি কমানো, কর ফাঁকি বন্ধ এবং কর ব্যবস্থার দুর্বলতা দূর করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে
সরকার। রাজস্ব প্রশাসনে কার্যকর পরিবর্তন আনতে আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস এই তিন খাতের
জন্য পৃথক টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে।
সরকারের পক্ষ
থেকে জানানো হয়েছে, নতুন টাস্কফোর্সগুলো কর ফাঁকির উৎস শনাক্ত, কর আদায় ব্যবস্থার সমস্যা
চিহ্নিত এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে কাজ করবে।
সংশ্লিষ্টরা
মনে করছেন, দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর কর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে
এই উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এর মাধ্যমে করের আওতা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আদায়ের
সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।
সরকারের লক্ষ্য,
এসব টাস্কফোর্সের মাধ্যমে কর ফাঁকির উৎস শনাক্ত, অযৌক্তিক কর অব্যাহতি পর্যালোচনা,
করদাতার সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজস্ব ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
অর্থ মন্ত্রণালয়
সূত্র জানায়, গত কয়েক বছরে বাজেটের আকার বাড়লেও সে তুলনায় রাজস্ব আদায় বাড়েনি। এর ফলে
উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও সরকারি ব্যয় পরিচালনায় ঋণের ওপর নির্ভরতা
বেড়েছে। একই সঙ্গে দেশের কর-জিডিপি অনুপাতও কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।
সংশ্লিষ্টরা
বলছেন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস খাতের সমস্যা ভিন্ন ধরনের হওয়ায় এবার আলাদা টাস্কফোর্সের
মাধ্যমে খাতভিত্তিক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব টাস্কফোর্স কর ফাঁকি রোধ, কর
প্রশাসনের দুর্বলতা চিহ্নিত করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে
কাজ করবে। গত কয়েক বছরে দেশের বাজেটের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও সেই অনুপাতে রাজস্ব
আদায় বৃদ্ধি পায়নি। ফলে উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি এবং সরকারি ব্যয়
পরিচালনায় ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, রাজস্ব আহরণে প্রত্যাশিত গতি না থাকায় সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায়
চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দেশের কর জিডিপি অনুপাতও এখনো কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করা
সম্ভব হয়নি।
এ পরিস্থিতিতে
রাজস্ব আদায় বাড়ানো, কর ব্যবস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং করের আওতা সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ
নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
তিনি বলেন,
কর ফাঁকি, জালিয়াতি এবং অযৌক্তিক কর ছাড় কমিয়ে একটি তথ্যভিত্তিক ও জবাবদিহিমূলক রাজস্ব
ব্যবস্থা গড়ে তোলাই সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
অর্থনীতিবিদদের
মতে, বাংলাদেশের রাজস্ব ব্যবস্থার অন্যতম বড় সমস্যা হলো সীমিত করদাতা সংখ্যা। দেশের
অর্থনীতি বড় হলেও করের আওতা সেই হারে বাড়েনি। ফলে নিয়মিত করদাতাদের ওপর চাপ বাড়ছে।
নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে করের আওতা বাড়ানো সম্ভব হলে রাজস্ব আদায়ে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
সরকার একই
সঙ্গে রাজস্ব ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। তথ্যভান্ডার,
স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি বিশ্লেষণ এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে কর ফাঁকি
শনাক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে সরকারি
ব্যয় ব্যবস্থাপনা নিয়েও সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। পরিচালন ব্যয় ও উন্নয়ন ব্যয়ের
মধ্যে ভারসাম্য আনা এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা বাড়াতে ডিজিটাল
মনিটরিং ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
ব্যবসায়ী নেতারা
সরকারের উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও সতর্ক করে বলেছেন, রাজস্ব বাড়ানোর নামে যেন ব্যবসায়ী
ও সাধারণ করদাতারা হয়রানির শিকার না হন। তাদের মতে, কর প্রশাসনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও
করদাতাবান্ধব করতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা
মনে করছেন, তিন টাস্কফোর্সের কার্যকর বাস্তবায়ন হলে দেশের রাজস্ব ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি
পরিবর্তন আসতে পারে। তবে এজন্য প্রয়োজন হবে নিয়মিত তদারকি, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার
এবং প্রশাসনিক জবাবদিহিতা।
আগামী অর্থবছরের
রাজস্ব লক্ষ্য অর্জন, বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সরকারের
এই সংস্কার উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
দেশজুড়ে/সবুজ