দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১২:৫৩ এএম
অনলাইন সংস্করণ
মালয়েশিয়ার
শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে নতুন নিয়োগব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ ব্যবস্থায় বাংলাদেশের
৩৩৮টি রিক্রুটিং, প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি
কর্মী পাঠানোর কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। একই সঙ্গে
বাংলাদেশ সরকারের বিশেষ অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ১০ হাজার বাংলাদেশি
কর্মীকে বিনা খরচে নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়া।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্বাক্ষর করেন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
মন্ত্রণালয়ের
তথ্য অনুযায়ী, নতুন এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য
হলো মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল করা,
বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা করা।
তালিকায় থাকছে ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠান নতুন
নিয়োগব্যবস্থায় বাংলাদেশ থেকে মোট ৩৩৮টি প্রতিষ্ঠানকে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে মালয়েশিয়ার কর্তৃপক্ষ। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে সরকারি জনশক্তি নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সার্ভিসেস লিমিটেড (বোয়েসেল), ২৫টি প্রসেসিং
ও সার্ভিস এজেন্সি এবং ৩১২টি বেসরকারি রিক্রুটিং এজেন্সি।
এ
ব্যবস্থায় তালিকাভুক্ত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে কর্মীর চাহিদাপত্র সংগ্রহ করতে পারবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুসরণ
করে কর্মী বাছাই এবং নিয়োগের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে।
যেভাবে সম্পন্ন হবে নিয়োগপ্রক্রিয়া নতুন
ব্যবস্থায় প্রথমে অনুমোদিত রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো মালয়েশিয়ার নিয়োগকর্তাদের কাছ থেকে কর্মী নিয়োগের চাহিদাপত্র সংগ্রহ করবে। এরপর নির্ধারিত নিয়ম অনুসারে যোগ্য কর্মী নির্বাচন করা হবে।
পরবর্তী সময়ে কলিং ভিসা ও ই-ভিসাসহ মালয়েশিয়ায় যাওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রমে বোয়েসেল ও তালিকাভুক্ত ২৫টি প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সি সহায়তা করবে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পর জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্র নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পাওয়া রিক্রুটিং এজেন্সিগুলো নিজেদের লাইসেন্সের আওতায় নির্বাচিত কর্মীদের ছাড়পত্রের ব্যবস্থা করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে চাকরির চাহিদাপত্র সংগ্রহ ও কর্মী নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা এজেন্সিগুলো নিজেদের লাইসেন্সের অধীনেই নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, বোয়েসেল ও নির্ধারিত প্রসেসিং ও সার্ভিস এজেন্সিগুলো ভিসা এবং অন্যান্য প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা করবে।
মন্ত্রণালয়ের
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এ ব্যবস্থায় প্রতিটি
প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব ও জবাবদিহি বজায়
রেখে কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া পরিচালনার সুযোগ তৈরি হবে। ১০
হাজার কর্মী নিয়োগে ব্যয় বহন করবে কে? বাংলাদেশ
সরকারের বিশেষ অনুরোধে ১০ হাজার কর্মীকে
সম্পূর্ণ বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় নেওয়ার বিষয়ে দেশটির কর্তৃপক্ষ নীতিগত সম্মতি দিয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে
বিনা খরচে কর্মী পাঠানোর কার্যক্রম কবে শুরু হবে, কোন কোন খাতে কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, কী যোগ্যতায় কর্মী
নির্বাচন করা হবে এবং যাতায়াত ও অন্যান্য খরচ
কোন পক্ষ বহন করবে এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
কর্মীদের জন্য কী সুযোগ তৈরি হতে পারে? নতুন
নিয়োগব্যবস্থা কার্যকর হলে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে বৈধ এজেন্সিগুলোর অংশগ্রহণ বাড়তে পারে। পাশাপাশি নিয়োগপ্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং কর্মীদের বিদেশ যাওয়ার খরচ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
তবে বিনা খরচে ১০ হাজার কর্মী নিয়োগের বিষয়ে নীতিগত সম্মতি পাওয়া গেলেও চূড়ান্ত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, আবেদনপদ্ধতি ও নির্বাচনের শর্ত প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত কর্মীদের অপেক্ষা করতে হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনাপ্রকাশিত হলে আগ্রহীদের সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করে আবেদন করার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।