দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ , ০৯:২০ এএম
অনলাইন সংস্করণ
ভালো
বেতনে চাকরির আশ্বাস দিয়ে অন্তত ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায়
নিয়ে যাওয়ার পর দেশটির সেনাবাহিনীতে
যোগ দিতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে একটি মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে। মাত্র ২১ দিনের প্রশিক্ষণ
শেষে তাদের রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে পাঠানো হয়। সেখানে অন্তত ২০ বাংলাদেশির মৃত্যু
হয়েছে বলে জানিয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাজধানীর
কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান এসআরবি-১০-এর অধিনায়ক
অতিরিক্ত ডিআইজি মো. আসাদুজ্জামান।
এ
ঘটনায় দায়ের করা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে মানবপাচার চক্রের কথিত মূল হোতা মিজানুর রহমান (৫৫) ও আবু তাহের
লেন্টু (৫০) নামে দুজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় সংস্থাটি। বুধবার ভোরে ফরিদপুরের নগরকান্দা থেকে মিজানুর রহমান এবং ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে লেন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ
সম্মেলনে জানানো হয়, নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে চলতি বছরের ৭ মে জবালে
নূর, আরএস ইন্টারন্যাশনাল ও টিএস গ্রুপ
নামের তিনটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ৩০ বাংলাদেশিকে রাশিয়ায়
পাঠানো হয়। প্রত্যেকের কাছ থেকে গড়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা
খরচ হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে সেখানে পৌঁছানোর পর প্রতিশ্রুত চাকরি
না দিয়ে তাদের রুশ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ
রয়েছে।
এসআরবির
অধিনায়ক আসাদুজ্জামান জানান, ওই বাংলাদেশিদের পর্যাপ্ত
সামরিক প্রশিক্ষণ, যুদ্ধের প্রস্তুতি কিংবা প্রয়োজনীয় কৌশলগত দক্ষতা ছিল না। মাত্র তিন সপ্তাহের প্রশিক্ষণ শেষে তাদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়। বাংলাদেশিদের সম্মুখযুদ্ধে পাঠানোর কারণ সম্পর্কে এসআরবির কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, প্রতিপক্ষের অবস্থান শনাক্ত করতে তাঁদের ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে।
তাঁদের
ওপর ড্রোন হামলার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হতো বলে ধারণা করছেন তদন্তসংশ্লিষ্টরা।
সংস্থাটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশিদের যুদ্ধক্ষেত্রের সামনের সারি, মধ্যবর্তী অংশ ও পেছনের এলাকায়
মোতায়েন করা হয়েছিল। প্রথম দিন ড্রোন হামলায় ১৭ জন নিহত
হন। পরে আরও তিনজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়।
সব মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০ জনে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ছয়জন এখনো যুদ্ধক্ষেত্রে রয়েছেন বলে জানিয়েছে এসআরবি। অন্য চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন মস্কোর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং দুজন দেশে ফিরেছেন। দেশে ফেরা ব্যক্তিদের একজন রাজন।
এসআরবির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৩ আগস্ট দূতাবাসের সহায়তায় তিনি বাংলাদেশে ফেরেন। তাঁর বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকায়। ড্রোন হামলায় তাঁর মেরুদণ্ডের নিচের অংশের হাড় ভেঙে যায়। আহত অবস্থায় তিনি প্রায় চার কিলোমিটার পথ বুকের ওপর ভর দিয়ে অতিক্রম করে একটি ক্যাম্পে পৌঁছান বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়। রাজন দেশে ফেরার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে কালীগঞ্জ থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। ওই মামলার সূত্র ধরে তদন্তে নেমে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে এসআরবি।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, পাচারের শিকার বাংলাদেশিদের বাড়ি গোপালগঞ্জ, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, জামালপুর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী ও গাজীপুরসহ বিভিন্ন জেলায়। তাঁদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের সদস্য।
বিদেশে চাকরির আশায় অনেকেই ঋণ করে বিপুল অর্থ ব্যয় করেছিলেন। নিহতদের কয়েকটি পরিবার মৃত্যুর খবর পেলেও স্বজনদের মরদেহ দেশে আনতে পারেনি বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় বাংলাদেশি সন্দেহভাজনদের পাশাপাশি ইগর নামের এক রুশ নাগরিক এবং জুলিয়া নামের এক কিরগিজ নারীর সম্পৃক্ততার অভিযোগও পেয়েছে এসআরবি।
তাঁদের
বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ছাড়া চক্রের
আরেক অভিযুক্ত সদস্য মোস্তাফিজুরকে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।