ব্রাজিল, সার্বিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন: বিশ্বরাজনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১০:০২ এএম

অনলাইন সংস্করণ

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ক্ষমতার ভারসাম্য, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বাধীনতা এবং কৌশলগত মিত্রতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাজিল, সার্বিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এসব দেশের নির্বাচনী ফলাফল শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা, আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও বৈশ্বিক ক্ষমতার সমীকরণেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

চার দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ভিন্ন হলেও কয়েকটি বিষয়ে মিল রয়েছে। নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, বিরোধী দলের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক এসব দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পাশাপাশি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিদ্যমান সমীকরণেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

 

গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক জবাবদিহির প্রশ্ন

 

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। কোথাও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নেতৃত্বের কর্তৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ছে, আবার কোথাও রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ওপর আইনসভা ও বিচার বিভাগের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্ক চলছে।

 এমন পরিস্থিতিতে ব্রাজিল, সার্বিয়া, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনকে শুধু ক্ষমতা দখল বা সরকার গঠনের লড়াই হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। এসব দেশের নির্বাচনী ফল ও পরবর্তী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভবিষ্যৎ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক এবং বিশ্বরাজনীতির পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

ব্রাজিল: ক্ষমতার লড়াইয়ে আমাজন ও পরিবেশনীতি

 

দক্ষিণ আমেরিকার বৃহত্তম অর্থনীতি ব্রাজিলের রাজনৈতিক পরিবর্তন পুরো লাতিন আমেরিকার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। দেশটির রাজনীতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর অনুসারী শিবির এবং লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।

 

জাইর বলসোনারোর ছেলে ফ্লাভিও বলসোনারোর রাজনৈতিক অবস্থান ও কর্মসূচি ঘিরে সাবেক প্রেসিডেন্টের আইনি পরিণতি, সাংবিধানিক পরিবর্তন এবং পরিবেশনীতি নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে আমাজন বনাঞ্চল সংরক্ষণ, কৃষি সম্প্রসারণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার নিয়ে সম্ভাব্য নীতিগত পরিবর্তন আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী মহলের নজরে রয়েছে।

 

আমাজন বনাঞ্চল বৈশ্বিক জলবায়ুর ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ফলে ব্রাজিলের বন সংরক্ষণনীতি ও ভূমি ব্যবস্থাপনার সিদ্ধান্ত জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার আন্তর্জাতিক উদ্যোগেও প্রভাব ফেলতে পারে।

 

এ ছাড়া বিচার বিভাগ ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক দেশটির গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ব্রাজিলের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন এলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, লাতিন আমেরিকার আঞ্চলিক সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনায় নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে।

 

সার্বিয়া: ছাত্র আন্দোলন, রাজনৈতিক সংস্কার ও ইউরোপের নিরাপত্তা

 

দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুচিচের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রভাবের বিরুদ্ধে বিরোধী দল ও ছাত্র আন্দোলনের তৎপরতা নতুন রাজনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং সরকারি জবাবদিহি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগও রাজনৈতিক বিতর্ককে তীব্র করেছে।

 

নোভি সাদের একটি রেলস্টেশনের ছাউনি ধসে ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর দেশটিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে আন্দোলন জোরদার হয়। ছাত্রদের নেতৃত্বে শুরু হওয়া প্রতিবাদ পরবর্তী সময়ে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের দাবিতে রূপ নেয়।

 

সার্বিয়ার ভূরাজনৈতিক অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দেশটি রাশিয়ার সঙ্গে ঐতিহাসিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে। ফলে দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিবর্তন হলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্ক, বলকান অঞ্চলের স্থিতিশীলতা এবং পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকারে প্রভাব পড়তে পারে।

 

নতুন রাজনৈতিক শক্তি প্রভাব বিস্তার করলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সংস্কারের উদ্যোগ বাড়তে পারে। অন্যদিকে বর্তমান নেতৃত্বের অবস্থান শক্তিশালী থাকলে বিদ্যমান নীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

 

ইসরায়েল: নিরাপত্তা, বিচার বিভাগ ও ফিলিস্তিন প্রশ্ন

 

ইসরায়েলের রাজনীতিতে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং সরকারের জবাবদিহি নিয়ে বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। দুর্নীতিসংক্রান্ত অভিযোগ, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়েও দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে মতবিরোধ রয়েছে।

 

তবে ইসরায়েলের নির্বাচন ও সরকার পরিবর্তনের সম্ভাব্য প্রভাব দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সীমাবদ্ধ নয়। গাজা যুদ্ধ, ফিলিস্তিনিদের ভবিষ্যৎ, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সামরিক সহযোগিতার বিষয়গুলোও এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত।

 

নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকলে বর্তমান নিরাপত্তানীতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকতে পারে। অন্যদিকে বিরোধী দল সরকার গঠন করলে প্রশাসনিক জবাবদিহি ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ফিলিস্তিন প্রশ্ন ও নিরাপত্তানীতি নিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যেও মতপার্থক্য রয়েছে।

 

এ কারণে সরকার পরিবর্তন হলেই ইসরায়েলের পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে নতুন নেতৃত্বের সিদ্ধান্ত মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি, আঞ্চলিক কূটনীতি এবং যুদ্ধবিরতি ও দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টাকে প্রভাবিত করতে পারে।

 

যুক্তরাষ্ট্র: কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ লড়াই

 

৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। এ নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের লড়াই হবে।

 

কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষের নিয়ন্ত্রণ বিরোধী ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের কার্যক্রমের ওপর নজরদারি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। অভিবাসন, শুল্কনীতি, নির্বাহী আদেশ এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে।

 

ডেমোক্র্যাটরা কংগ্রেসের কোনো কক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে বিভিন্ন নীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে তদন্ত, শুনানি এবং সরকারি ব্যয়ের ওপর তদারকি বাড়াতে পারেন। তবে আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের দুই কক্ষের অবস্থান, প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা