দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ , ১০:২৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশজুড়ে ডেস্ক : ইতালিতে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবকের কাছ থেকে ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়ার অভিযোগে মানব পাচারকারী চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর বিমানবন্দর থানার আশকোনা হজ ক্যাম্প এলাকার সিভিল এভিয়েশন ওয়েলফেয়ার মার্কেটের সামনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আতিকুর রহমান টমাস (৩২) ও মো. বদিউল আলম ভূঁইয়া ওরফে বেলাল (৫৪)।
সিআইডির
তথ্য অনুযায়ী, নোয়াখালীর সেনবাগের ওই যুবক প্রায়
তিন বছর সৌদি আরবে কাজ করেছেন। দেশে ফেরার পথে বিমানে এক ব্যক্তির সঙ্গে
তাঁর পরিচয় হয়। পরে ওই ব্যক্তির মাধ্যমে
একটি মানব
পাচারকারী দলের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়। একপর্যায়ে চক্রটি লিবিয়া হয়ে তাঁকে ইতালি পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ১২ লাখ টাকার
বিনিময়ে চুক্তি করে।
চুক্তির
পর গত ৫ এপ্রিল
আশকোনার একটি কার্যালয়ে ওই যুবক তাঁর
পাসপোর্ট জমা দেন এবং শুরুতে ১ লাখ ৩০
হাজার টাকা পরিশোধ করেন। দুই দিন পর, ৭ এপ্রিল তাঁকে দিল্লিতে
নেওয়া হয়। সেখান থেকে শ্রীলঙ্কার কলম্বোয় পাঠানো হয় তাঁকে। সেখানে
প্রায় ১৬ দিন রাখার
পর নানা কারণ দেখিয়ে তাঁর পরিবারের কাছ থেকে পর্যায়ক্রমে আরও অর্থ নেওয়া হয়। পরে সংযুক্ত আরব
আমিরাতের শারজাহ হয়ে তাঁকে মিসরের কায়রোতে নেওয়া হয়।
সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, কায়রো বিমানবন্দর থেকে চক্রের এক সদস্য তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে কয়েকদিন আটকে রাখেন। সেখানে চুক্তির বাইরে আরও ৬ হাজার মার্কিন ডলার দাবি করা হয়। পরবর্তীতে নগদ, বিকাশ ও ব্যাংক লেনদেনের মাধ্যমে যুবক ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে মোট ১২ লাখ ৬৭ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এরপর গাড়িতে করে দুর্গম মরুভূমি ও পাহাড়ি সীমান্ত অতিক্রম করে তাঁকে লিবিয়ায় নেওয়া হয়। সেখানে একটি কথিত ‘গেম রুমে’ আটকে রেখে তাঁকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে লিবিয়ার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে কারাগারে পাঠায়। তখনও তাঁকে মুক্ত করার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও ৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরবর্তীতে লিবিয়া পুলিশ গত ৭ জুলাই তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
দেশে
ফিরে তিনি ৫ অক্টোবর বিমানবন্দর
থানায় মানব পাচারের অভিযোগে মামলা করেন। মামলার
তদন্তভার পাওয়ার পর সিআইডি তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের
ভিত্তিতে অভিযুক্তদের অবস্থান শনাক্ত করে। পরে অভিযান চালিয়ে টমাস ও বেলালকে গ্রেপ্তার
করা হয়। গ্রেপ্তার
দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।