দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০২:০৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর জুরাইনে শারমিন আক্তার শেলী (২৬) হত্যাকাণ্ড ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। হত্যার পরও তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে বিভিন্নজনের সঙ্গে চ্যাট হওয়ায় ঘটনায় নতুন রহস্য তৈরি হয়েছে। বিষয়টি উদঘাটনে কাজ শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় শেলীর সঙ্গে স্বামী পরিচয়ে বসবাসকারী আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
রোববার দুপুরে কদমতলী থানাধীন জুরাইন এলাকার একটি বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে শেলীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা থানায় মামলা দায়ের করেছেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, বাসার সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রযুক্তিগত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২১ এপ্রিল রাতে মামুন ওই বাসায় প্রবেশ করেন এবং পরদিন সকালে বের হয়ে বাইরে থেকে তালা লাগিয়ে যান। পরে ফ্ল্যাট থেকে দুর্গন্ধ বের হলে বাড়িওয়ালা বিষয়টি শেলীর মোবাইলে জানালে সেখান থেকে উত্তর দেওয়া হয় যে তিনি বাইরে আছেন এবং ফিরে এসে বিষয়টি দেখবেন।
তবে তদন্তে উঠে এসেছে, ওই সময়ের মধ্যে শেলীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং তার ফোনটি অভিযুক্তই ব্যবহার করছিলেন। তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণে দেখা যায়, শেলীর ফোনের সর্বশেষ অবস্থান ছিল পল্লবী এলাকার একটি আবাসিক এলাকা, যেখানে মামুনের বসবাস।
পুলিশের ধারণা, হত্যার পর নিজের সম্পৃক্ততা আড়াল করতেই অভিযুক্ত ব্যক্তি শেলীর ফোন ব্যবহার করে চ্যাট চালিয়ে যান। এতে ঘটনাটি ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে শেলী ও মামুনের মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে তারা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তবে পারিবারিক ও সামাজিক জটিলতার কারণে তাদের সম্পর্কের টানাপোড়েন ছিল বলে জানা গেছে।
নিহতের পরিবারের দাবি, বিয়ের বিষয়ে চাপ দেওয়ায় শেলীকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কয়েকদিন যোগাযোগ না পেয়ে পরে তারা তার মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।