প্রকাশিত: ০৪ মার্চ ২০২৬ , ০২:৪৫ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
নিয়মিত রাত ১১টার পর ঘুমাতে যাওয়ার
অভ্যাস হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক
চাপসহ বিভিন্ন শারীরিক ও মানসিক সমস্যার
ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে সতর্ক করেছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আধুনিক জীবনযাপন ও মোবাইল ফোনসহ
বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মানুষের ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ বিঘ্নিত হচ্ছে। দেরি করে জেগে থাকার প্রবণতা সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
চিকিৎসকদের
পরামর্শ অনুযায়ী, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিন সাত থেকে নয় ঘণ্টা মানসম্মত
ঘুম প্রয়োজন। ঘুমের সময় শরীর ও মস্তিষ্ক নিজেদের
পুনর্গঠন ও পুনরুদ্ধারের কাজ
সম্পন্ন করে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং গুরুত্বপূর্ণ শারীরিক প্রক্রিয়াগুলো নিয়ন্ত্রিত হয়। নিয়মিত পর্যাপ্ত ঘুম না হলে দিনে
ক্লান্তি, খিটখিটে মেজাজ, মনোযোগের ঘাটতি ও কর্মক্ষমতা হ্রাস
পেতে পারে।
গবেষণায়
দেখা গেছে, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে রাত ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে ঘুমানো উপকারী। নিয়মিত দেরিতে ঘুমালে শরীরের জৈবঘড়ি ব্যাহত হয়, যার ফলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করার মাত্রা ও হৃদস্পন্দনের ছন্দে
অসামঞ্জস্য দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এটি হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
স্বাস্থ্য
বিশেষজ্ঞরা জানান, যারা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকেন তারা তুলনামূলক বেশি অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করেন। এতে ওজন বৃদ্ধি, বিপাকক্রিয়ার ধীরগতি ও হজমজনিত সমস্যা
দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শক্তির ঘাটতি ও দৈনন্দিন কাজের
সক্ষমতাও কমে যায়।
পর্যাপ্ত
ঘুমের অভাব মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও প্রভাব ফেলে। এতে মানসিক চাপ, উদ্বেগ ও মেজাজের ওঠানামা
বাড়তে পারে। শিক্ষার্থী ও কর্মজীবীদের ক্ষেত্রে
মনোযোগ ও দক্ষতা কমে
যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। দীর্ঘদিন ঘুমের ঘাটতি থাকলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে মোবাইল বা অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার কমানো উচিত। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তোলা, রাতে ক্যাফেইন ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলা, শান্ত ও অন্ধকার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং নিয়মিত জীবনযাপন ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক। এতে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমানো সম্ভব।
দেশজুড়ে/সবুজ