হামে বাড়ছে আতঙ্ক, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—ভয় নয়, সচেতনতাই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৪০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দেশে হামের সংক্রমণ নিয়ে জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, আতঙ্ক নয়সচেতনতা ও সঠিক তথ্যই এ রোগ মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

চিকিৎসকরা জানান, হাম একটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে ভাইরাসজনিত রোগ, যা বাতাস ও হাঁচি-কাশির ড্রপলেটের মাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি ১২ থেকে ১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে পারেন। ভাইরাস শরীরে প্রবেশের ১০ থেকে ১৪ দিনের মধ্যে সাধারণত লক্ষণ প্রকাশ পায়।

 

### প্রাথমিক লক্ষণ

 

হামের শুরুতে তিনটি লক্ষণ বেশি দেখা যায়তীব্র কাশি, সর্দি এবং চোখ লাল হওয়া। এর সঙ্গে উচ্চ জ্বর, মুখের ভেতরে সাদা দানার মতো দাগ (কপ্লিক স্পট) এবং কয়েকদিন পর শরীরে র‌্যাশ দেখা দেয় ।

 

### ঝুঁকিতে কারা

 

বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু, গর্ভবতী নারী এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। গর্ভাবস্থায় হাম হলে গর্ভপাত, অকাল প্রসব বা কম ওজনের শিশুর জন্মের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে।

 

### সম্ভাব্য জটিলতা

 

চিকিৎসকদের মতে, প্রায় ৩০ শতাংশ ক্ষেত্রে গুরুতর জটিলতা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, কানের সংক্রমণ, এমনকি মস্তিষ্কে প্রদাহ (এনসেফালাইটিস)। দীর্ঘমেয়াদে বিরল হলেও মারাত্মক স্নায়বিক রোগও হতে পারে।

 

### প্রতিরোধের উপায়

 

হাম প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর ব্যবস্থা হলো টিকা। এমআর (Measles-Rubella) এবং এমএমআর (Measles-Mumps-Rubella) টিকা নিরাপদ ও কার্যকর। সরকারি টিকাদান কর্মসূচির আওতায় শিশুদের ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়।

 

বিশেষ পরিস্থিতিতে ৬ মাস বয়স থেকেও টিকা দেওয়া হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, একটি ডোজ প্রায় ৮৫-৯০ শতাংশ সুরক্ষা দেয়, আর দ্বিতীয় ডোজ নেওয়ার মাধ্যমে সুরক্ষা আরও নিশ্চিত হয়।

 

### চিকিৎসা ও যত্ন

 

হাম হলে শিশুকে পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর খাবার দিতে হবে। জ্বর নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে এবং পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে হবে। আক্রান্ত শিশুকে অন্তত পাঁচ দিন আলাদা রাখতে হবে, যাতে সংক্রমণ না ছড়ায়।

 

চিকিৎসকরা আরও বলেন, হাম ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় সাধারণত অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন হয় না, তবে জটিলতা দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

### কখন হাসপাতালে যাবেন

 

শিশুর শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, বারবার বমি, প্রস্রাব কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক নিস্তেজতা দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

### সচেতনতার ওপর জোর

 

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সমাজের অন্তত ৯৫ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনা গেলে হামের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব। তাই কোনো শিশুকে যেন টিকাদান থেকে বাদ না দেওয়া হয়এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

 

চিকিৎসকদের ভাষায়, “আতঙ্ক নয়, সচেতনতাএই দুইয়ের পার্থক্যই পারে হামের মতো সংক্রামক রোগ থেকে সমাজকে নিরাপদ রাখতে।


দেশজুড়ে/সবুজ