খাদ্যাভ্যাসে অসতর্কতা ত্বকের বার্ধক্য ডেকে আনতে পারে, বলছেন বিশেষজ্ঞরা

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০১ জুন ২০২৬ , ১১:০৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

 

ত্বক এই প্রক্রিয়াকে আরও দ্রুততর করতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। শুধু বাহ্যিক সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, এটি মানুষের সামগ্রিক স্বাস্থ্যেরও গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে ত্বকে স্বাভাবিক পরিবর্তন এলেও কিছু খাদ্যাভ্যাস

 

তাদের মতে, নির্দিষ্ট কিছু খাবার পানীয় নিয়মিত গ্রহণ করলে ত্বকের কোলাজেন ক্ষয়, প্রদাহ বৃদ্ধি এবং স্থিতিস্থাপকতা হ্রাস পেতে পারে। ফলে অল্প বয়সেই ত্বকে বলিরেখা, শুষ্কতা বয়সের ছাপ দেখা দিতে পারে।

 

অতিরিক্ত চিনি পরিশোধিত শর্করা

 

কেক, পেস্ট্রি, মিষ্টি, সাদা পাউরুটি পরিশোধিত আটা দিয়ে তৈরি খাবারে উচ্চমাত্রার চিনি থাকে। এসব খাবার শরীরেগ্লাইকেশন প্রক্রিয়া বাড়িয়ে দেয়, যার ফলে কোলাজেন ইলাস্টিন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ত্বক তার স্বাভাবিক নমনীয়তা হারিয়ে দ্রুত বয়সী দেখাতে শুরু করে।

 

এছাড়া অতিরিক্ত চিনি মেশানো কোমল পানীয়, সিরাপযুক্ত কফি বা মিষ্টি চা ত্বকের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

 

প্রক্রিয়াজাত ভাজাপোড়া খাবার

 

চিপস, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সসেজ, হটডগ বিভিন্ন প্রক্রিয়াজাত মাংসে সাধারণত পুষ্টিগুণ কম থাকে। এসব খাবার শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং ত্বকের স্বাভাবিক পুনর্গঠন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করে। ফলে ত্বক শুষ্ক প্রাণহীন হয়ে পড়তে পারে।

 

অতিরিক্ত অ্যালকোহল গ্রহণ

 

গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত অ্যালকোহল সেবনের সঙ্গে ত্বকের দ্রুত বার্ধক্যের সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত বেশি পরিমাণে অ্যালকোহল গ্রহণ করলে চোখের নিচে ফোলা ভাব, ত্বক ঢিলে হয়ে যাওয়া এবং মুখমণ্ডলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

 

লবণসমৃদ্ধ খাবার

 

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বাড়াতে পারে, যা কোষের ক্ষতির অন্যতম কারণ। পিজ্জা, বার্গার, প্রক্রিয়াজাত মাংস, চিজ বিভিন্ন প্যাকেটজাত খাবারে সাধারণত লবণের পরিমাণ বেশি থাকে। এসব খাবার বেশি খেলে ত্বকের বয়সের ছাপ দ্রুত ফুটে উঠতে পারে।

 

ট্রান্স ফ্যাটযুক্ত খাদ্য

 

পার্শিয়ালি হাইড্রোজেনেটেড অয়েলসমৃদ্ধ খাদ্যে ট্রান্স ফ্যাট থাকতে পারে। কুকিজ, ডোনাট, আলুর চিপস, ফ্রোজেন পিজ্জা কিছু প্রক্রিয়াজাত খাদ্যে ধরনের চর্বি পাওয়া যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রান্স ফ্যাট কোলাজেনের ক্ষতি করে এবং ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা কমিয়ে দেয়।

 

ত্বক সতেজ রাখতে যেসব খাবার উপকারী

 

বিশেষজ্ঞরা ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে কিছু পুষ্টিকর খাবার নিয়মিত খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে

 

চিনি ছাড়া গ্রিন টি, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ।

অলিভ অয়েল, সামুদ্রিক মাছ ওমেগা- সমৃদ্ধ স্বাস্থ্যকর চর্বি।

বিভিন্ন ধরনের বাদাম, যা প্রদাহ কমাতে সহায়ক।

স্ট্রবেরি, ব্লুবেরিসহ ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বেরিজাতীয় ফল।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, তারুণ্য ধরে রাখার কোনো জাদুকরী উপায় নেই। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ প্রক্রিয়াজাত খাদ্য পরিহার করলে দীর্ঘদিন ত্বক সুস্থ সতেজ রাখা সম্ভব।

 

দেশজুড়ে/সবুজ