দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১০ জুলাই ২০২৬ , ০৫:২৮ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
দেশজুড়ে
টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি
দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে অন্তত পাঁচটি প্রধান নদীর একাধিক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। একই সঙ্গে দেশের কয়েকটি জেলায় স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার
(১০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র
(এফএফডব্লিউসি) জানায়, দেশের ১২৭টি নদী পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৯টি পয়েন্টে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চল।
বর্তমানে
সাঙ্গু নদীর বান্দরবান ও দোহাজারী, মাতামুহুরী
নদীর লামা ও চিরিঙ্গা, মনু
নদীর মৌলভীবাজারের দুটি পয়েন্ট, কুশিয়ারা নদীর মারকুলি ও ফেঞ্চুগঞ্জ এবং
খোয়াই নদীর বাল্লা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া
অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস
কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে কয়েক দিন ধরে দেশের উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায়
ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায়
দেশের সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতেও উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত হয়েছে, যার প্রভাব বাংলাদেশের নদীগুলোতে পড়ছে।
এদিকে
বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও তিস্তা,
সুরমা, কুশিয়ারা, সোমেশ্বরী ও ছোট ফেনী
নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি সতর্কসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। ফলে এসব এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর
বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে
৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী
নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত
মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে উপকূলসংলগ্ন
এলাকায় অবস্থান করে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে চলাচলের পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
তবে
একই সময়ে ফেনী, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার
নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা রয়েছে। ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে এসব এলাকার নদ-নদীর পানি
আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
এছাড়া
তিস্তা নদী অববাহিকার লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার
নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও সাময়িক বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছে।
দেশজুড়ে/ডেস্ক