কাপাসিয়ায় গ্রাম আদালত বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০২৬ , ০৬:০৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, সুবিধা ও আইনগত দিক সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) সকাল ১১টা থেকে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শুরু হওয়া এ কর্মশালা দুপুর ২টা পর্যন্ত চলে।

কর্মশালায় গ্রাম আদালতের কার্যক্রম, বিচারিক ক্ষমতা, মামলা নিষ্পত্তির পদ্ধতি এবং সাধারণ মানুষের জন্য এর গুরুত্ব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ ও কাপাসিয়া উপজেলার গ্রাম আদালত প্রকল্পের সমন্বয়ক রুবিয়া আক্তার।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডা. তামান্না তাসনীম। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুহুল আমিন, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা ফাতেমা তুজ জোহরা, উপজেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী কর্মকর্তা শোভারানী দাস এবং কাপাসিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ চন্দ্র রায়।

এ সময় স্থানীয় সাংবাদিক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা লিটন, দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক সাইফুল ইসলাম শাহীন, প্রেসক্লাবের সাংগঠনিক সম্পাদক বেলায়েত হোসেন শামীম, কাপাসিয়া রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শফিকুল আলম সবুজ, সাধারণ সম্পাদক শেখ সফিউদ্দিন জিন্না, সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমসহ স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও ডা. তামান্না তাসনীম বলেন, গ্রাম আদালত স্থানীয় পর্যায়ে বিচারপ্রার্থী মানুষের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কার্যকর ব্যবস্থা। এটি উচ্চ আদালতের সহায়ক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করে এবং ছোটখাটো দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ প্রদান করে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে পরিচালিত এই আদালতের মাধ্যমে সাধারণ মানুষ স্বল্প খরচে এবং কম সময়ে ন্যায়বিচার পেতে পারেন।

তিনি আরও বলেন, গ্রাম আদালতের বিচারিক ক্ষমতার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। তিন লাখ টাকার অধিক আর্থিক দাবিসংক্রান্ত বিষয় কিংবা গুরুতর অপরাধের বিচার এ আদালতের আওতাভুক্ত নয়। এ ধরনের মামলার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট আদালত বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থার শরণাপন্ন হতে হয়। তবে সাধারণ বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে গ্রাম আদালত অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারে।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাহিদুল হক তার বক্তব্যে বলেন, অনেক সময় ছোটখাটো বিরোধ বা মামলার জন্য মানুষ উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হয়, ফলে সময়, অর্থ ও শ্রমের অপচয় ঘটে। গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা ও সচেতনতা সৃষ্টি করা গেলে সাধারণ মানুষ সহজেই স্থানীয় পর্যায়ে সমস্যার সমাধান করতে পারবেন।

তিনি বলেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে মামলা নিষ্পত্তি হলে বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি কমবে, মামলার জট হ্রাস পাবে এবং স্থানীয় পর্যায়ে শান্তি ও সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এজন্য জনগণের মধ্যে গ্রাম আদালত সম্পর্কে আগ্রহ ও আস্থা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা গ্রাম আদালতের বিভিন্ন দিক নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন এবং স্থানীয় পর্যায়ে এ বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে মতামত প্রদান করেন। অনুষ্ঠানের শেষে গ্রাম আদালতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সকলের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।


দেশজুড়ে/সবুজ