দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬ , ১১:০৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
কাপাসিয়া
(গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বীর উজলী মডেল একাডেমির অষ্টম শ্রেণির ছাত্র তাফসিরুল ইসলাম অন্ত (১৪) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিখোঁজের প্রায় আধা ঘণ্টা পর বীর উজলী
বাজারের একটি দোতলা ভবনের ছাদ থেকে তার রক্তমাখা শার্ট, প্যান্ট, জুতা ও স্কুলের আইডি
কার্ড উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য ছড়িয়ে
পড়েছে।
নিখোঁজ
তাফসিরুল ইসলাম অন্ত টোক ইউনিয়নের ডুমদিয়া মধ্যপাড়া এলাকার সোহাগ খানের দ্বিতীয় ছেলে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ছেলেকে খুঁজে না পেয়ে তার
বাবা কাপাসিয়া থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ করেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর
২টার দিকে বীর উজলী বাজারের একটি দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরায় অন্তকে সর্বশেষ দেখা যায়। এর প্রায় ৩০
মিনিট পর বীর উজলী
বাজারের ব্যবসায়ী মফিজ উদ্দিন তার দোতলা ভবনের ছাদে রক্তমাখা পোশাক, জুতা ও স্কুলের আইডি
কার্ড পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।
একজন স্কুলছাত্রকে সর্বশেষ সিসিটিভিতে দেখার পরপরই তার ব্যবহৃত পোশাক ও অন্যান্য সামগ্রী
রক্তমাখা অবস্থায় একটি ভবনের ছাদে পাওয়ার বিষয়টি ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে। পোশাক ও আইডি কার্ড
সেখানে কীভাবে গেল, রক্তের উৎস কী এবং ঘটনার
সঙ্গে এসব আলামতের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—এসব প্রশ্ন এখন সামনে এসেছে।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া আলামতগুলো তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। পোশাকে থাকা রক্ত কার, নিখোঁজ ছাত্রের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক
আছে কি না এবং
ঘটনার সময় ওই ভবনের ছাদে
কারও যাতায়াত হয়েছিল কি না এসব
বিষয় খতিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। তবে তদন্ত ও আলামত পরীক্ষা
শেষ হওয়ার আগে ঘটনার বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
এদিকে তাফসিরুলের সন্ধান না পাওয়ায় তার
পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে
উৎকণ্ঠা বাড়ছে। দ্রুত তাকে উদ্ধার এবং ছাদ থেকে উদ্ধার হওয়া রক্তমাখা পোশাক, জুতা ও আইডি কার্ডের
রহস্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
টোক পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রফিকুল ইসলাম ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছেন বলে জানা গেছে। কাপাসিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ নাসির আহম্মদ জানান, নিখোঁজের বিষয়ে থানায় ডায়েরি করা হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।