দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ১১:৫৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
যুক্তরাজ্যে
ফিলিস্তিনপন্থী ব্যক্তিদের ওপর নানা ধরনের দমন-পীড়ন ও বিধিনিষেধ আরোপের
অভিযোগ উঠে এসেছে এক নতুন প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়েছে, গত ছয় বছরে
দেশটিতে অন্তত ৯৬৪টি যাচাই করা ঘটনার নথি সংরক্ষণ করা হয়েছে, যেখানে ফিলিস্তিনপন্থী কণ্ঠস্বরকে স্তব্ধ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে গবেষকদের দাবি, প্রকৃত সংখ্যা এর চেয়েও অনেক
বেশি হতে পারে।
ইউরোপীয়
লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার (ইএলএসসি) এবং গবেষণা সংস্থা ফরেনসিক আর্কিটেকচারের যৌথ উদ্যোগে ‘ব্রিটেন ইনডেক্স অব রিপ্রেশন’ নামে
একটি নতুন পর্যবেক্ষণ টুল চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে শিক্ষা,
স্বাস্থ্য, শিল্পকলা ও অন্যান্য খাতে
ফিলিস্তিনপন্থী সক্রিয়তার ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ ও প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপগুলো
মানচিত্রায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি ব্রিটিশ সমাজে এ ধরনের ঘটনার
প্রথম বিস্তৃত নথিভুক্ত উদ্যোগ।
প্রতিবেদনে ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের আগস্ট পর্যন্ত সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে ৯৬৪টি ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে। তবে গবেষকদের ভাষ্য, অনেক ভুক্তভোগী হয়রানির আশঙ্কায় অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে জানান না। ফলে নথিভুক্ত ঘটনাগুলোকে তারা “হিমশৈলের চূড়া” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ইএলএসসির সিনিয়র মনিটরিং কর্মকর্তা তারা মারিওয়ানি বলেন, সংগৃহীত তথ্য একটি ধারাবাহিক ও পুনরাবৃত্তিমূলক প্রবণতার ইঙ্গিত
দেয়। তার মতে, ভিন্নমতাবলম্বীদের কোণঠাসা করতে রাষ্ট্রীয়, প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত ক্ষমতার
সমন্বিত ব্যবহার লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রতিবেদনে দমন-পীড়নের একটি কাঠামোগত ধাপও তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে বলা হয়, প্রথমে অপপ্রচার বা কলঙ্কলেপনের মাধ্যমে
ব্যক্তিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়, পরে আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং শেষপর্যন্ত
গ্রেপ্তার, বরখাস্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থার
মতো ফলাফল দেখা যায়।
এছাড়া এতে উল্লেখ করা হয়েছে, এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রীয়
সংস্থা, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি পক্ষের একটি বিস্তৃত নেটওয়ার্ক সক্রিয় থাকে। ফলে কোনো একক সংস্থার ওপর পুরো দায় বর্তায় না। কিছু ক্ষেত্রে গণমাধ্যমের বয়ানও এ প্রক্রিয়াকে সহায়তা
করে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
গবেষণা সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, নতুন এই ডেটাবেজ ফিলিস্তিন
সংহতি আন্দোলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল হিসেবে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে দমন-পীড়নের ধরন বিশ্লেষণে সহায়ক হবে।
সূত্র:
টিআরটি ওয়ার্ল্ড।