সফরে কেমন হওয়া উচিত একজন মুমিন? ইসলাম দিল ১০টি গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৩৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

 বিভিন্ন প্রয়োজনে মানুষকে প্রায়ই দূর-দূরান্তে সফর করতে হয়। তবে এই সময়টি মানুষের জন্য অনেকটাই সংবেদনশীল, কারণ সে পরিবার-পরিজন পরিচিত পরিবেশ থেকে দূরে অবস্থান করে। এমন পরিস্থিতিতে আচরণে সংযম ভারসাম্য বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে ইসলাম।

ইসলামী শিক্ষায় বলা হয়েছে, সফরের সময় মানুষ শারীরিক মানসিকভাবে কিছুটা অস্বস্তিতে থাকে। তাই সহযাত্রীদের প্রতি সহনশীল সহযোগিতামূলক আচরণ করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সহিহ হাদিসে উল্লেখ আছে, সফর মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত ঘটায়, ফলে প্রয়োজন শেষ হলে দ্রুত পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

 

ধর্মীয় সূত্রে জানা যায়, একজন মুমিন সফরসঙ্গী হিসেবে কিছু বিশেষ গুণাবলি ধারণ করবে। এর মধ্যে অন্যতম হলো তাকওয়া বা আল্লাহভীতি, যা তাকে সব পরিস্থিতিতে সঠিক পথে পরিচালিত করে।

 

এছাড়া সফরের সময় সহনশীলতা বজায় রাখা, ঝগড়া-বিবাদ থেকে বিরত থাকা এবং পরস্পরের প্রতি সহযোগিতামূলক মনোভাব প্রদর্শন করা গুরুত্বপূর্ণ। ইসলাম অন্যায় কাজে সহযোগিতা না করার পাশাপাশি সৎ কাজে একে অপরকে সহায়তা করার নির্দেশ দেয়।

 

সহযাত্রীর সঙ্গে মনোমালিন্য হলেও তাকে পরিত্যাগ না করা, বরং সহমর্মিতার সঙ্গে পাশে থাকা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। একই সঙ্গে আচরণে নম্রতা, হাসিমুখে কথা বলা এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখাও ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, সফরের সময় দলগতভাবে চলা এবং একজনকে নেতৃত্বের দায়িত্ব দেওয়া শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহায়ক। পাশাপাশি সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারসাম্য বজায় রাখা এবং অন্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার মনোভাব কলহ কমাতে ভূমিকা রাখে।

 

এছাড়া সফরের সময় নিয়মিত দোয়া পাঠ করা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। হাদিসে বলা হয়েছে, মুসাফিরের দোয়া আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে গ্রহণযোগ্য।

 

ধর্মীয় নির্দেশনায় আরও বলা হয়েছে, একাকী সফর এড়িয়ে চলা নিরাপত্তার জন্য উত্তম। বরং দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করলে ঝুঁকি কমে এবং পারস্পরিক সহায়তা পাওয়া সহজ হয়।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইসলামের এসব নির্দেশনা অনুসরণ করলে সফর শুধু সহজই হয় না, বরং তা হয়ে ওঠে শান্তিপূর্ণ কল্যাণময়।


দেশজুড়ে/সবুজ