রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত—রমজানে সহমর্মিতার অনন্য বার্তা

প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:২১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ইবাদতের পাশাপাশি উদারতা, সহমর্মিতা ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করার এক মহৎ সময়। সারাদিন সিয়াম সাধনার পর একজন রোজাদার যখন ইফতারের অপেক্ষায় থাকেন, তখন তাকে খাবার দিয়ে সহযোগিতা করা শুধু মানবিক কাজই নয়, বরং তা মহান সওয়াবেরও কারণ।

 

হাদিসে বিষয়ে সুস্পষ্ট সুসংবাদ দেওয়া হয়েছে। যাইদ ইবনে খালিদ আল-জুহানী (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেনযে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করায়, সে রোজাদারের সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে। তবে এতে রোজাদারের সওয়াব থেকে কোনো অংশ কমানো হবে না (তিরমিজি, হাদিস: ৮০৭)

 

ইসলামি শিক্ষাবিদরা বলেন, এই হাদিস ইসলামের দানশীলতা পারস্পরিক সহযোগিতার অনন্য দৃষ্টান্ত। একজন রোজাদার সারাদিন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য ক্ষুধা-তৃষ্ণা সহ্য করেন। তাকে ইফতার করানোর মাধ্যমে অন্য একজন মুমিন সেই ইবাদতের সওয়াবে অংশীদার হওয়ার সুযোগ পান। এটি আল্লাহর অসীম অনুগ্রহের প্রকাশ।

 

এক্ষেত্রে বড় আয়োজনের প্রয়োজন নেই। অন্য বর্ণনায় এসেছে, একটি খেজুর বা এক ঢোক পানি দিয়েও রোজাদারকে ইফতার করানোর ফজিলত অর্জন করা যায় (ইবনে খুযাইমা) অর্থাৎ সামান্য সামর্থ্য নিয়েও এই নেক আমল করা সম্ভব।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, রমজানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে একে অপরের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের সামাজিক চেতনারই অংশ। বিশেষ করে অসহায় অভাবী রোজাদারদের ইফতার করানো অধিক মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে বিবেচিত।

 

সার্বিকভাবে, রমজান শুধু ব্যক্তিগত ইবাদতের মাস নয়; বরং অন্যের কল্যাণে অংশ নেওয়ারও সুবর্ণ সময়। আন্তরিকতা ইখলাসের সঙ্গে রোজাদারকে ইফতার করানো দুনিয়া আখিরাতে কল্যাণের কারণ হতে পারে।

 

 দেশজুড়ে/সবুজ