দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৮ মার্চ ২০২৬ , ০৮:০৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পবিত্র
রমজান মাসে ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেললে ইসলামী শরিয়তে তার জন্য কঠোর বিধান রয়েছে। এ ক্ষেত্রে সাধারণত
কাফফারা আদায় করা ওয়াজিব হয়। তবে কেউ যদি কাফফারা পালনে বাস্তবিকভাবে অক্ষম হন, তাহলে তার করণীয় কী—এ বিষয়ে
ইসলামী ফিকহের গ্রন্থগুলোতে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
ইসলামী
বিধান অনুযায়ী, কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভেঙে ফেললে তার ওপর কাফফারা হিসেবে ধারাবাহিকভাবে ৬০টি রোজা রাখতে হয়। আর যদি তা
সম্ভব না হয়, তাহলে
৬০ জন অসহায় বা
মিসকিনকে খাদ্য প্রদান করতে হয়।
তবে কোনো ব্যক্তি যদি বাস্তবিক অর্থেই এতটা অক্ষম হন যে তিনি
না ৬০টি রোজা রাখতে পারেন, না ৬০ জন
মিসকিনকে খাওয়াতে পারেন, তাহলে তার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে বেশি বেশি তওবা ও ইস্তেগফার করার
নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
হানাফি মাজহাবের প্রামাণ্য গ্রন্থ আল-বাহরুর রায়িক শরহু কানযুদ দাকায়িক-এ উল্লেখ করা
হয়েছে, ফিদিয়া কেবল সেই রোজার ক্ষেত্রে দেওয়া যায়, যা মূল ফরজ
রোজা। যেমন—রমজানের রোজা, তার কাজা বা মান্নতের রোজা।
কোনো ব্যক্তি যদি দুর্বলতা বা বাস্তব অক্ষমতার
কারণে এসব রোজা রাখতে না পারেন, তাহলে
তিনি ফিদিয়া দিতে পারবেন। আর যদি দারিদ্র্যের
কারণে ফিদিয়াও দিতে না পারেন, তাহলে
তিনি আল্লাহ তাআলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করবেন।
এ ছাড়া আদ-দুররুল মুখতার শরহ তানওীরুল আবসার গ্রন্থে বলা হয়েছে, অত্যন্ত বৃদ্ধ বা এমন অসুস্থ
ব্যক্তি যিনি রোজা রাখার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছেন, তার জন্য রোজা না রাখা বৈধ।
তবে এর পরিবর্তে তার
ওপর ফিদিয়া দেওয়া ওয়াজিব। কেউ চাইলে রমজান মাসের শুরুতেই ফিদিয়া আদায় করতে পারেন। ফিদিয়া একাধিক গরিবকে দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়; একজন গরিবকেও দেওয়া যেতে পারে—যদি দাতা সচ্ছল হন।
তবে যদি কেউ এতটাই অসচ্ছল হন যে ফিদিয়াও
দিতে পারেন না, তাহলে তার জন্য আল্লাহ তাআলার কাছে আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করা এবং বেশি বেশি ইস্তেগফার করাই উত্তম বলে উল্লেখ করেছেন ফিকহবিদরা।
ধর্মীয়
বিশ্লেষকদের মতে, রোজা ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই মুসলমানদের উচিত যথাসম্ভব সতর্কতার সঙ্গে রোজা পালন করা এবং শরিয়তের বিধান মেনে চলা।