জাকাতের টাকা দিয়ে শাড়ি-লুঙ্গি কিনে দিলে কি জাকাত আদায় হবে? যা বলছেন আলেমরা

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬ , ০৫:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে শুধু নগদ অর্থ দেওয়াই বাধ্যতামূলক নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী পোশাক বা খাদ্যদ্রব্য দিয়েও জাকাত আদায় করা বৈধ বলে জানিয়েছেন ইসলামি আলেমরা। তাই কেউ যদি জাকাতের টাকা দিয়ে শাড়ি বা লুঙ্গি কিনে জাকাত গ্রহণের উপযুক্ত দরিদ্র ব্যক্তিদের দেন, তবে তার জাকাত আদায় হয়ে যাবে।

ইসলামি সূত্রগুলোতে উল্লেখ রয়েছে, জাকাতের অর্থ দিয়ে দরিদ্র মানুষের প্রয়োজন মেটানোই মূল উদ্দেশ্য। সে অনুযায়ী নগদ অর্থের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়েও জাকাত প্রদান করা যেতে পারে।

 

এ বিষয়ে একটি বর্ণনা পাওয়া যায় মুয়াজ ইবনে জাবাল (রা.)–এর জীবন থেকে। তিনি যখন ইয়েমেন–এ জাকাত সংগ্রহের দায়িত্বে ছিলেন, তখন মানুষকে শস্যের পরিবর্তে কাপড় দেওয়ার কথাও বলেছিলেন। কারণ এতে মানুষের জন্য সহজ হয় এবং তা উপকারেও আসে। এ বর্ণনাটি পাওয়া যায় মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা গ্রন্থে।

 

তবে আলেমরা মনে করিয়ে দেন, জাকাতের নামে নিম্নমানের বা অপ্রয়োজনীয় জিনিস বিতরণ করা ঠিক নয়। ইসলাম মানুষকে উত্তম ও প্রিয় বস্তু থেকে দান করতে উৎসাহ দেয়। এ বিষয়ে পবিত্র কুরআনুল কারিম–এ বলা হয়েছে— “তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পূর্ণ পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু থেকে ব্যয় করো।” (সুরা আলে ইমরান: ৯২)

 

আলেমদের মতে, বর্তমান সময়ে অনেক ক্ষেত্রে জাকাত নগদ অর্থ হিসেবে দেওয়া বেশি কার্যকর। কারণ এতে দরিদ্র মানুষ নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী খাদ্য, পোশাক বা চিকিৎসাসহ অন্যান্য জরুরি কাজে তা ব্যয় করতে পারেন।

 

অন্যদিকে অনেক সময় দেখা যায়, শাড়ি-লুঙ্গি বিতরণ করলে তা সবার প্রয়োজনের সঙ্গে মেলে না। ফলে অনেক দরিদ্র মানুষ বাধ্য হয়ে কম দামে সেই পোশাক বিক্রি করে দেন। তাই দরিদ্রের প্রকৃত প্রয়োজন বিবেচনায় জাকাত দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন আলেমরা।


দেশজুড়ে/সবুজ