‘ইহুদিবিদ্বেষী’ প্রভাবশালীদের তালিকা প্রকাশ ইসরাইলের, বিতর্কে বিশ্বজুড়ে আলোচিত নাম

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৫৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ইসরাইলের ডায়াসপোরা বিষয়ক মন্ত্রণালয় ২০২৫ সালের জন্য বিশ্বের শীর্ষ ১০ইহুদিবিদ্বেষী জায়নবাদবিরোধীপ্রভাবশালী ব্যক্তির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। মঙ্গলবার প্রকাশিত এই প্রতিবেদনটি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

প্রতিবেদনে এমন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যাদের কোনো আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক পদ নেই, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশাল অনুসারী থাকার কারণে তারা জনমত প্রভাবিত করার সক্ষমতা রাখেন। তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ধরণ, তীব্রতা এবং তাদের কার্যক্রম থেকে সম্ভাব্যঝুঁকিবিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়।

 

প্রকাশিত তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছেন মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার ড্যান বিলজেরিয়ান। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন পরিবেশবাদী কর্মী গ্রেটা থানবার্গ, যিনি সাম্প্রতিক সময়ে ফিলিস্তিনিদের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সরব হয়েছেন। এছাড়া তালিকায় জায়গা পেয়েছেন মার্কিন সাংবাদিক টাকার কার্লসন, ভাষ্যকার ক্যান্ডাস ওয়েন্স এবং অতি-ডানপন্থী কর্মী নিক ফুয়েন্তেস। ব্রিটিশ-ফিলিস্তিনি সাংবাদিক আবদেল বারি আতওয়ান রয়েছেন পঞ্চম স্থানে।

 

ইসরাইলি মন্ত্রণালয়ের দাবি, তালিকাভুক্ত ব্যক্তিরা তাদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ইহুদিবিদ্বেষী ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য ছড়াচ্ছেন। তবে এই অভিযোগের তীব্র সমালোচনা করেছেন তালিকাভুক্তদের একজন আবদেল বারি আতওয়ান। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইসরাইল সরকার রাষ্ট্রীয় নীতির সমালোচনা এবং প্রকৃত ইহুদিবিদ্বেষএই দুই বিষয়কে এক করে দেখছে।

 

নিজেকেসেমিটিকপরিচয়ে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাজা, লেবানন বা ইরানে ইসরাইলের সামরিক কার্যক্রমের বিরোধিতা করা মানেই ইহুদিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া নয়। তার মতে, ইসরাইলকে সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখার এই প্রচেষ্টা উদ্বেগজনক।

 

এদিকে সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা যাচ্ছে, বিশেষ করে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক মনোভাব বেড়েছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৬০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক আমেরিকান এখন ইসরাইল সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করছেন, যা আগের বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, এমন প্রেক্ষাপটে এই তালিকা প্রকাশকে অনেকেই আন্তর্জাতিক জনমত প্রভাবিত করার একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন।