দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০৮:৫৩ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রমজান
মাস মুসলিম উম্মাহর জন্য রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা
নিয়ে আসে। কুরআনুল কারিম নাজিলের মাস হিসেবে রমজানের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে। এ মাসের রোজা
প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানদের ওপর ফরজ—ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের একটি।
ইতিহাস ও ইসলামী সূত্র অনুযায়ী, রমজানের রোজা নবুওয়াতের শুরুতেই ফরজ করা হয়নি। হিজরতের পর মদিনায় দ্বিতীয় হিজরির শাবান মাসে মুসলমানদের ওপর রমজানের রোজা ফরজ করা হয়। পবিত্র কুরআনের সুরা বাকারা (আয়াত ১৮৫)-এ ঘোষণা করা হয়, রমজান মাসেই কুরআন নাজিল হয়েছে এবং যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন রোজা পালন করে। অসুস্থ বা সফররত ব্যক্তিদের জন্য পরবর্তী সময়ে রোজা কাজা করার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা ইসলামের সহজতার নীতিকে প্রতিফলিত করে।
এর আগে কোনো রোজা ফরজ ছিল কি না—এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অনেক ফকিহ ও মুহাদ্দিসের মতে, রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার আগে আশুরার (১০ মহররম) রোজা পালন করা ওয়াজিব ছিল। পরবর্তীতে রমজানের রোজা ফরজ হলে আশুরার রোজা নফলে পরিণত হয়। হজরত আয়েশা (রা.)-এর বর্ণনা অনুযায়ী, জাহেলি যুগে কুরাইশরা আশুরার রোজা পালন করত এবং রাসুলুল্লাহ (সা.) মদিনায় হিজরতের পরও তা আদায় করতেন।
রমজানের রোজা ফরজ হওয়ার মাধ্যমে মুসলমানদের জন্য আত্মসংযম, তাকওয়া ও আধ্যাত্মিক শুদ্ধতার এক নতুন অধ্যায় শুরু হয়। কুরআনের সুরা বাকারা (আয়াত ১৮৩)-এ বলা হয়েছে, পূর্ববর্তী উম্মতদের মতো মুসলমানদের ওপরও রোজা ফরজ করা হয়েছে, যাতে তারা আল্লাহভীতি অর্জন করতে পারে।
ঐতিহাসিক বর্ণনা অনুযায়ী, রাসুলুল্লাহ (সা.) দ্বিতীয় হিজরিতে রোজা ফরজ হওয়ার পর থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত মোট নয় বছর রমজানের রোজা পালন করেন। একাদশ হিজরির রবিউল আউয়াল মাসে তিনি ইন্তেকাল করেন।
রমজানের
রোজা কেবল খাদ্য ও পানাহার থেকে
বিরত থাকার নাম নয়; এটি আত্মশুদ্ধি, ধৈর্য, সহমর্মিতা ও আল্লাহর নৈকট্য
লাভের একটি অনন্য সুযোগ। মুসলিম বিশ্বে যুগে যুগে এই মাসকে কেন্দ্র
করে ইবাদত-বন্দেগি ও আধ্যাত্মিক চর্চার
বিশেষ আবহ তৈরি হয়ে আসছে।