দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৪৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
পটুয়াখালীর
গলাচিপায় এক মেধাবী শিক্ষার্থীর
জীবন হঠাৎ করেই থমকে গেছে একটি মিথ্যা মামলার কারণে। ভয়, আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও
দমে যায়নি তার ইচ্ছাশক্তি—লুকিয়ে
লুকিয়ে পরীক্ষা দিয়েই অর্জন করেছে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি।
নবম শ্রেণির ছাত্রী হাসিবুন নাহার সিনহা বর্তমানে স্বাভাবিক জীবন থেকে অনেকটাই বিচ্ছিন্ন। আদালতের বারান্দা আর আত্মগোপনে থাকা—এ বাস্তবতাতেই কাটছে তার দিন।
শনিবার
রাতে গলাচিপা মহিলা কলেজ সড়কের নিজ বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে
হাসিবুন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার আকুতি জানায়। একই সঙ্গে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে রাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করে।
সংবাদ
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন তার বাবা গলাচিপা মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক হারুন অর রশিদ, মা
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক লুৎফুর নাহার, বড় ভাই শিহাব
ও ছোট ভাই সাহাদাৎ।
লিখিত
বক্তব্যে হাসিবুন জানায়, ছোটবেলা থেকেই সে পড়াশোনায় মেধার
পরিচয় দিয়ে আসছে। কিন্তু ২০২৫ সালের ২৯ ডিসেম্বর ইংরেজি
পরীক্ষা চলাকালে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনায় তাকে একটি মামলার ১২ নম্বর আসামি
করা হয়। সেই থেকে শুরু হয় তার দুর্বিষহ
জীবন। গ্রেফতারের ভয়ে বাড়িতে থাকতে না পেরে আত্মগোপনে
থেকেই বাকি পরীক্ষাগুলো দিতে হয়েছে তাকে।
এত
প্রতিকূলতার মধ্যেও থেমে থাকেনি তার চেষ্টা। সব বাধা পেরিয়ে
গলাচিপা উপজেলা থেকে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি অর্জন করে নিজের মেধা ও দৃঢ়তার প্রমাণ
দিয়েছে হাসিবুন।
হাসিবুনের
ভাষায়, “আমাকে যদি এ মামলায় জড়ানো
না হতো, তাহলে আমি আরও ভালো ফল করতে পারতাম,
মেধা তালিকায় স্থান পেতাম।”
তার
বাবা হারুন অর রশিদ অভিযোগ
করেন, পৈতৃক জমি দখলের উদ্দেশ্যে প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেছে। তিনি জানান, ১৯৮১ সালে তার বাবা আপ্তার আলী হাওলাদার গলাচিপা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের
রতনদী মৌজায় প্রায় ৪৮.৫ শতাংশ
জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের জরিপে ওই জমির ৪৫
শতাংশ তার ও তার দুই
ভাইয়ের নামে রেকর্ড হয়, যেখানে বর্তমানে তাদের বসতবাড়ি রয়েছে।
তিনি
আরও বলেন, জমি দখলের চেষ্টার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর গলাচিপা
থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এর জেরে প্রতিপক্ষ
ক্ষিপ্ত হয়ে ২৯ ডিসেম্বর রাতে
জমি দখলের চেষ্টা চালায় এবং একই দিনে আদালতে একটি লুটের মামলা করে, যেখানে তার স্কুলপড়ুয়া মেয়েকেও আসামি করা হয়।
অভিযোগের
বিষয়ে প্রতিপক্ষ কাইয়ুম মৃধার বক্তব্য জানা যায়নি।
গলাচিপা
থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ঝিলন সিকদার জানান, আদালতের নির্দেশে মামলাটি রেকর্ড করে তদন্ত করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নির্দোষ
কেউ হয়রানির শিকার হবেন না বলেও আশ্বস্ত
করেন তিনি।
**শেষ
কথা:**
সব
প্রতিকূলতার মাঝেও হাসিবুনের এই অর্জন প্রমাণ
করে—স্বপ্নকে থামানো যায় না। এখন অপেক্ষা শুধু ন্যায়বিচার আর স্বাভাবিক জীবনে
ফেরার।