ইফতারে জিরা পানি—হজম থেকে রোগ প্রতিরোধে সম্ভাব্য উপকারিতা

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

রমজানে দীর্ঘ সময় রোজা রাখার পর ইফতারে শরীরকে সতেজ রাখতে অনেকেই জিরা পানি পান করেন। রান্নাঘরের পরিচিত এই মসলা শুধু খাবারের স্বাদ বাড়ায় না, সঠিকভাবে প্রস্তুত করে পান করলে শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে বলে জানান পুষ্টিবিদরা।

 বিশেষজ্ঞদের মতে, সারাদিন না খেয়ে থাকার পর ইফতারে হঠাৎ ভারী বা ভাজাপোড়া খাবার খেলে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এ ক্ষেত্রে জিরা পানি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

হজম শক্তি বাড়াতে সহায়ক

জিরায় থাকা প্রাকৃতিক উপাদান হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে। ইফতারের পর গ্যাস, অম্বল বা পেট ফাঁপা কমাতে জিরা পানি উপকারী হতে পারে।

 

গ্যাস ও অ্যাসিডিটি নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা

রমজানে ভাজাপোড়া ও মসলাযুক্ত খাবার বেশি খাওয়ার প্রবণতা থাকে। এতে অনেকের গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা বাড়ে। জিরা পানি পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিডের প্রভাব কিছুটা কমাতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।

 

শরীর ঠান্ডা রাখতে সহায়ক

গরমের দিনে রোজার পর শরীর ক্লান্ত ও উত্তপ্ত অনুভূত হতে পারে। জিরা শরীরের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে সাময়িক স্বস্তি দিতে পারে।

 

পানিশূন্যতা কাটাতে সহায়তা

দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও না পান করে থাকার ফলে শরীরে পানির ঘাটতি তৈরি হয়। জিরা মিশ্রিত পানি শরীরে তরলের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

 

ওজন নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য ভূমিকা

নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে জিরা পানি পান করলে বিপাকক্রিয়া কিছুটা সক্রিয় হতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।

 

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক

জিরায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

কীভাবে তৈরি করবেন জিরা পানি

 

১. এক গ্লাস পানিতে ১ চা চামচ জিরা সারা রাত ভিজিয়ে রাখুন। সকালে হালকা গরম করে ছেঁকে নিন। ইফতারে পান করা যেতে পারে।

২. এক চা চামচ জিরা দুই কাপ পানিতে ভালোভাবে সিদ্ধ করুন। পানি অর্ধেকে নেমে এলে চুলা থেকে নামিয়ে ছেঁকে ঠান্ডা করে ইফতারের সময় পান করুন।

 

সতর্কতা

 

যাদের আলসার, অতিরিক্ত নিম্ন রক্তচাপ বা অন্য কোনো জটিল শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত জিরা পানি পান করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।

 

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান ও পরিমিত ইফতারই সুস্থ রমজানের মূল চাবিকাঠি বলে মনে করছেন পুষ্টিবিদরা।



 দেশজুড়ে/সবুজ