দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৩:২৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
মার্কিন
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর দ্বিতীয় মেয়াদে এসে একাধিক দেশে সামরিক অভিযান অনুমোদন দিয়েছেন বলে প্রশাসন–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। ক্যারিবীয় সাগর ও পূর্ব প্রশান্ত
মহাসাগরে কথিত মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের পাশাপাশি ইতোমধ্যে সাতটি দেশে হামলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গত বড়দিনের সময় নাইজেরিয়ায় ইসলামিক স্টেট (আইএস)–সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়। একইভাবে ডিসেম্বর থেকে সিরিয়ায় আইএসবিরোধী একাধিক বিমান অভিযান পরিচালনা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
৩ জানুয়ারি ভোরে ভেনেজুয়েলায় একটি বিশেষ অভিযান চালানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, ওই অভিযানে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছে। অভিযানে প্রায় ৭৫ জন নিহত হওয়ার তথ্যও প্রকাশিত হয়েছে।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইরান, ইরাক, সোমালিয়া ও ইয়েমেনেও সামরিক হামলার অনুমোদন দেয়।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানে ‘মেজর কমব্যাট অপারেশনস’ শুরুর ঘোষণা দেন। তিনি তেহরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংস এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে পদক্ষেপ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানান, যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের যৌথ অভিযান ‘যতদিন প্রয়োজন’ ততদিন চলবে। বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়েছে।
তেহরান ও অন্যান্য শহরে
বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাওয়ার পর ইরান ‘বিধ্বংসী
প্রতিশোধ’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। পারস্য উপসাগরে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত সামরিক শক্তি মোতায়েন করেছে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে চাপ বাড়ালেও কূটনৈতিক আলোচনা এখনো কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছায়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক ফ্রন্টে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক নীতির ধরনে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত
মিলছে। ইরান–ইসরায়েল উত্তেজনা এবং পারস্য উপসাগরে সামরিক তৎপরতা বাড়তে থাকলে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হতে পারে।
পরিস্থিতি কোন দিকে গড়ায়, তা এখন নির্ভর করছে ইরানের প্রতিক্রিয়া এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।
দেশজুড়ে/সবুজ