যুক্তরাষ্ট্রের তদন্তের তালিকায় বাংলাদেশ: ‘অতি উৎপাদন ও ‘জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুতে নতুন প্রশ্ন

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪ মার্চ ২০২৬ , ১১:৫৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

 বাংলাদেশসহ বিশ্বের বেশ কিছু দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা জোরপূর্বক শ্রমের ব্যবহার নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তালিকায় বাংলাদেশের নাম থাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির দপ্তর (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, বাংলাদেশসহ ১৬টি দেশের উৎপাদন খাতে অতিরিক্ত সক্ষমতা বা অতিরিক্ত উৎপাদনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি পণ্য উৎপাদনে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহারের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না, তা যাচাই করতে আরও ৬০টি দেশের ওপর পৃথক তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জ্যামিয়েসন গ্রির জানান, কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্য কার্যক্রমের প্রমাণ মিললে সেই দেশের পণ্যের ওপর আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। একইসঙ্গে জোরপূর্বক শ্রম ব্যবহার করে তৈরি পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করছে কিনা এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়িক স্বার্থে ক্ষতি করছে কি নাসেটিও পর্যালোচনা করা হবে।

 

মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপ করা অস্থায়ী শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই তদন্ত শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। তদন্তের আওতায় বাংলাদেশের পাশাপাশি তৈরি পোশাক রপ্তানিতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ চীন, ভারত, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া ভিয়েতনামও রয়েছে।

 

ইউএসটিআর জানিয়েছে, তদন্ত শুরুর পর সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শুরু হয়েছে। তালিকাভুক্ত দেশগুলোকে আগামী ১৭ মার্চের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। বিষয়ে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে।

 

তদন্তে মূলত দেখা হবে, কোনো দেশে জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার জন্য তাদের আইন, নীতি এবং বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর। একইসঙ্গে এসব নীতি বা চর্চা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যের ওপর কোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি করছে কি না, সেটিও যাচাই করা হবে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের পাল্টা শুল্ক নীতি বাতিল করে দেওয়ার পর বিকল্প উপায় হিসেবে এই তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। তদন্তে অতি উৎপাদন সক্ষমতা বা জোরপূর্বক শ্রমের প্রমাণ পাওয়া গেলে মার্কিন বাণিজ্য আইনের আওতায় সংশ্লিষ্ট দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা সম্ভব হবে।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক . আবুল খায়ের বলেন, যেসব দেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে বেশি পণ্য রপ্তানি হয়, সেসব দেশকেই মূলত এই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত যুক্তরাষ্ট্রে বড় রপ্তানিকারক হওয়ায় দেশটির নামও তালিকায় এসেছে।

 

তার মতে, যুক্তরাষ্ট্র খতিয়ে দেখবে কোনো দেশ ভর্তুকি, বিশেষ সুবিধা বা সস্তা শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন খরচ কমিয়ে বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে কি না। এমন প্রমাণ মিললে সংশ্লিষ্ট দেশের পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।

 

অর্থনীতিবিদ সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো . মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘অতি উৎপাদন সক্ষমতাবিষয়টির স্পষ্ট সংজ্ঞা নির্ধারণ করা কঠিন। বাজার অর্থনীতিতে চাহিদার ওঠানামা বিবেচনায় উৎপাদকরা স্বাভাবিকভাবেই উৎপাদন সক্ষমতা বাড়িয়ে রাখেন।

 

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান বলেছেন, তদন্ত শুরু হলেও এতে তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি দেখছে না সরকার। ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র যদি আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তথ্য বা ব্যাখ্যা চায়, সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অন্যতম বড় বাণিজ্য অংশীদার। দুই দেশের মধ্যে বার্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৮০০ কোটি ডলার। এর মধ্যে বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, বিপরীতে আমদানি করে প্রায় ২০০ কোটি ডলারের পণ্য। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রায় ৪০০ কোটি ডলারের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত রয়েছে।


দেশজুড়ে/সবুজ