বিদেশে নারী শ্রমিকদের সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ, সংসদে সরকারের আশ্বাস

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮ জুন ২০২৬ , ০৬:৫০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

 

বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি জাতীয় সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে। সংসদ সদস্যরা নারী কর্মীদের ওপর নির্যাতন, বেতন বঞ্চনা এবং চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে কার্যকর সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন।

সোমবার ( জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে বিষয়ে আলোচনা হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

 

আলোচনায় অংশ নিয়ে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য মারদিয়া মমতাজ বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে তিন লাখের বেশি বাংলাদেশি নারী বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে গেছেন। তাদের মধ্যে অনেকে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি, নিরাপত্তাহীনতা শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছেন। তিনি নারী কর্মীদের জন্য ২৪ ঘণ্টার হটলাইন, সেফ হোম, বীমা সুবিধা এবং নিয়োগকর্তা যাচাই প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চান।

 

জবাবে প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূরু জানান, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের অভিযোগ গ্রহণ সহায়তা প্রদানের জন্য ১৬১৩৫ নম্বরে টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। প্রবাসীরা দেশ-বিদেশ থেকে এই সেবার মাধ্যমে অভিযোগ জানাতে পারেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা পেয়ে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসও প্রবাসীদের সহায়তায় সক্রিয় রয়েছে।

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে নতুন শ্রমচুক্তি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব চুক্তির মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে হয়রানি, সামাজিক সুরক্ষা এবং শ্রম অধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ বৃদ্ধি পেয়েছে।

 

তিনি আরও জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশে ধাপে ধাপে ধরনের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রের ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা নারী কর্মীর সংখ্যাও আগের তুলনায় কমেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 

নারী শ্রমিকদের বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে বর্তমানে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কর্মপরিবেশ, সামাজিক নিরাপত্তা আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড নিশ্চিত হওয়ার পরই কর্মী পাঠানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনিঅ্যাডভান্স পুলগঠনের বিষয়টি তুলে ধরেন। এই ব্যবস্থার আওতায় বিদেশি নিয়োগকর্তারা সরাসরি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ করতে পারবেন। এতে দালাল মধ্যস্বত্বভোগীদের ভূমিকা কমবে এবং সরকারি তদারকি আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এদিকে সম্পূরক প্রশ্নে বিরোধী দলের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বিদেশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের নানা ধরনের হয়রানি প্রতারণার শিকার হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রবাসী শ্রমিকদের অধিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চান।

 

জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদেশে বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দূতাবাসভিত্তিক সেবা শক্তিশালী করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি সহায়তা, অভিযোগ নিষ্পত্তি এবং নিরাপদ অভিবাসন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন কার্যক্রম চলমান রয়েছে।


দেশজুড়ে/সবুজ