ক্যাপাসিটি চার্জের বোঝা কমাতে চুক্তি পুনর্মূল্যায়নের উদ্যোগ সরকারের

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬ , ১১:১৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ঢাকা, ১২ জুন: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেছেন, অতীতে বিদ্যুৎ খাতে করা ক্যাপাসিটি চার্জভিত্তিক চুক্তিগুলোর কারণে রাষ্ট্রকে উল্লেখযোগ্য আর্থিক চাপ বহন করতে হচ্ছে। তবে এসব চুক্তি আইনি ও চুক্তিগতভাবে সংবেদনশীল হওয়ায় সরকার বিষয়গুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

শুক্রবার রাজধানীতে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি (পিজিসিবি) এবং ন্যাশনাল লোড ডিসপ্যাচ সেন্টার (এনএলডিসি) পরিদর্শন শেষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

 

মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান চুক্তিগুলো আইনগত কাঠামোর মধ্যে পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ও পর্যালোচনা কার্যক্রম চালাচ্ছে। তিনি বলেন, নতুন সরকার দায়িত্ব নিয়েই সব পরিবর্তন করতে পারে না; এজন্য নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

 

তিনি আরও বলেন, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সঞ্চালন সক্ষমতা বৃদ্ধি পেলেও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন একই গতিতে হয়নি। ফলে বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে এবং গ্রাহকরা বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সম্মুখীন হচ্ছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত করণীয় নির্ধারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী জাতীয় গ্রিডের জন্য নির্মিত আধুনিক ‘প্রটেকশন অ্যান্ড অটোমেশন ল্যাব উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, নতুন এই ল্যাব জাতীয় গ্রিডের নিরাপত্তা জোরদার, ফল্ট বিশ্লেষণ এবং আধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিরাপদ পরিচালনাতেও এটি সহায়ক হবে।

 

সভায় জানানো হয়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট আগামী নভেম্বরে চালুর লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। এছাড়া গ্যাস ও কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হলে জাতীয় গ্রিড আরও দক্ষ ও সাশ্রয়ীভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হবে।

 

কর্মকর্তারা জানান, রূপপুর থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ নিরাপদে জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালনের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রমও সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যে শম্ভুগঞ্জ ও টাঙ্গাইল গ্রিড উপকেন্দ্র এবং সংশ্লিষ্ট সঞ্চালন লাইন চালু হলে ময়মনসিংহ অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

দেশজুড়ে/সবুজ