কাপাসিয়ায় স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের মেধা ও বিজ্ঞান উদ্ভাবন প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২ জুন ২০২৬ , ০৩:৫৯ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিজ্ঞানমনস্কতা, সৃজনশীলতা উদ্ভাবনী চিন্তাধারা বিকাশের লক্ষ্যে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় স্কুল কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মেধা বিজ্ঞান উদ্ভাবন প্রদর্শনী প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকাল ১১টায় কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিম (EESS)-এর উদ্যোগে প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সরকারের শিক্ষা উন্নয়ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্ভাবনী প্রকল্প, বিজ্ঞানভিত্তিক মডেল এবং সৃজনশীল গবেষণামূলক কাজ প্রদর্শন করে।


অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ডা. তামান্না তাসনীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল আরিফ সরকার, গাজীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফজাল হোসেন বেপারী, জেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর শেফাউল্লাহ, কাপাসিয়া সদর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সেলিম হোসেন আরজু, কাপাসিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি এফ এম কামাল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শামসুল হুদা লিটন। এছাড়াও উপজেলার বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী অভিভাবকরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।


প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা, তথ্যপ্রযুক্তি এবং দৈনন্দিন জীবনের সমস্যা সমাধানভিত্তিক বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রকল্প উপস্থাপন করে। শিক্ষার্থীদের তৈরি বিভিন্ন মডেল গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং উপস্থিত অতিথিরা তাদের সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করেন।


অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে ইউএনও ডা. তামান্না তাসনীম বলেন, “যে দেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তিতে এগিয়ে গেছে, সেই দেশই উন্নয়নের শিখরে পৌঁছেছে। বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে হলে আমাদের শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান প্রযুক্তিনির্ভর জ্ঞান অর্জনে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও অসংখ্য মেধাবী শিক্ষার্থী রয়েছে। যথাযথ পরিচর্যা সুযোগ-সুবিধার অভাবে তাদের অনেকেই নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পায় না। এসব মেধাবী শিক্ষার্থীকে খুঁজে বের করে তাদের দক্ষতা উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে।


তিনি আরও বলেন, “বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে শিক্ষক, অভিভাবক এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে একযোগে কাজ করতে হবে। নতুন প্রজন্মকে উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করা গেলে তারা ভবিষ্যতে দেশ জাতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে।

অনুষ্ঠান শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের প্রদর্শিত প্রকল্প মূল্যায়ন করা হয়। বিচারকদের মূল্যায়নের ভিত্তিতে সেরা উদ্ভাবনী প্রকল্পগুলোকে পুরস্কৃত করার পাশাপাশি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদপত্র বিতরণ করা হয়।


শিক্ষক অভিভাবকরা ধরনের আয়োজনকে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল চিন্তা গবেষণামুখী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা ভবিষ্যতেও নিয়মিতভাবে এমন বিজ্ঞান উদ্ভাবনভিত্তিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের দাবি জানান।

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞানচর্চা উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডে উৎসাহিত করার মাধ্যমে একটি জ্ঞানভিত্তিক প্রযুক্তিনির্ভর প্রজন্ম গড়ে তোলাই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে দেশের তরুণ শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিজেদের মেধা দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সক্ষম হবে।

 

দেশজুড়ে/সবুজ