কাপাসিয়ায় উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন’ সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদে শিক্ষকদের মানববন্ধন

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৯ জুলাই ২০২৬ , ০৪:১০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি: গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলামের বিরুদ্ধে বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদকেমিথ্যা, ভিত্তিহীন উদ্দেশ্যপ্রণোদিতদাবি করে মানববন্ধন করেছেন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় কাপাসিয়া উপজেলা পরিষদ চত্বরে উপজেলা শিক্ষা অফিসের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ১১টি ইউনিয়নের বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সহকারী শিক্ষকরা ব্যানার, ফেস্টুন প্রতিবাদী প্ল্যাকার্ড নিয়ে অংশ নেন। প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী চলা কর্মসূচি দুপুর দেড়টার দিকে শেষ হয়।

মানববন্ধন পরিচালনা করেন হরিমঞ্জুরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান।

সময় বক্তব্য দেন বেগুনহাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুসলিমা আক্তার সুইটি, দেওনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমজাদ হোসেন, কাপাসিয়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহিলী নাসরিন, রামপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জান্নাতুল ফেরদৌসী জিনু, ধরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আতিকুল ইসলাম, পাবুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাসুদা বেগম, বারাব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মতিন, হিজলিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আরিফুল ইসলাম, একডালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকির হোসেন কিরণ, রাওনাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন, নলগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক এস এম শফিকুল ইসলাম এবং কামারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমসহ আরও অনেকে।

বক্তারা বলেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলাম একজন সৎ, দক্ষ শিক্ষকবান্ধব কর্মকর্তা। প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন শিক্ষার মানোন্নয়নে অবদান রাখার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০১৯ সালে জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা নির্বাচিত হন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একটি স্বার্থান্বেষী মহল পরিকল্পিতভাবে তাঁর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কয়েকটি গণমাধ্যম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

শিক্ষকরা আরও বলেন, সাংবাদিকতা একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বশীল পেশা। তারা গণমাধ্যমকর্মীদের প্রতি তথ্য যাচাই করে বস্তুনিষ্ঠ, নিরপেক্ষ দায়িত্বশীল সংবাদ প্রকাশের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তারা শিক্ষা কর্মকর্তা রমিতা ইসলামের বিরুদ্ধেঅপপ্রচারবন্ধ এবং ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার থেকে বিরত থাকার দাবি জানান।

অন্যদিকে, সম্প্রতি কাপাসিয়া উপজেলার সোনারুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান এড়িয়ে যাওয়া, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার মারধরসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। কয়েকজন অভিভাবক তাঁর বিরুদ্ধে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল ফোনে আপত্তিকর ভিডিও দেখার অভিযোগও করেন।

এসব অভিযোগের পর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার নির্দেশনায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত মঙ্গলবার তদন্ত কমিটির সদস্যরা বিদ্যালয়ে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা, অভিভাবক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করেন।

তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


দেশজুড়ে/সবুজ