নতুন সরকারের কাছে স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থার প্রত্যাশা তরুণদের

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:০০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দীর্ঘদিন পর ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর দেশের তরুণসমাজের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বিশেষ করে বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত চাকরিপ্রার্থী এখন তাকিয়ে আছেন নবনির্বাচিত সরকারের দিকে। তাদের প্রত্যাশা, দীর্ঘস্থায়ী স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় গতি ফিরবে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

চাকরিপ্রার্থীরা বলছেন, প্রশ্নপত্র ফাঁসের চক্র ভেঙে দেওয়া, ঝুলে থাকা নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত শেষ করা এবং সরকারি-বেসরকারি চাকরির মধ্যে বিদ্যমান বৈষম্য কমানো এখন সময়ের দাবি। নতুন সরকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা গড়ে তুলবেএমন প্রত্যাশাই তাদের।

 

সরকারি-বেসরকারি চাকরিতে ভারসাম্যের দাবি

 

চাকরিপ্রার্থীদের মতে, সরকারি বেসরকারি চাকরির মধ্যে সুযোগ-সুবিধা নিরাপত্তার বড় পার্থক্য রয়েছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী ফারজানা ইয়াসমিন মনে করেন, দুই খাতের মধ্যে ভারসাম্য আনতে ন্যায্য মজুরি কাঠামো সুস্পষ্ট নীতিমালা জরুরি। বেসরকারি খাতে চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলে সরকারি চাকরির ওপর চাপ কমবে বলেও মত দেন তিনি। পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে নারীর নিরাপত্তা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী আতিকুর রহমান নিয়োগ পরীক্ষায় সমন্বয়ের অভাবের কথা তুলে ধরেন। তার মতে, একই দিনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা নেওয়া অনিয়ম সৃষ্টি করে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় থাকলে এমন পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।

 

প্রশ্নফাঁস দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ

 

চাকরিপ্রার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ প্রশ্নপত্র ফাঁস অনিয়ম নিয়ে। বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অনিকা সরকার বলেন, কঠোর প্রস্তুতির পর পরীক্ষার আগমুহূর্তে প্রশ্নফাঁসের খবর পেলে প্রার্থীদের মনোবল ভেঙে পড়ে। তিনি নিয়োগ পরীক্ষায় প্রযুক্তিনির্ভর জালিয়াতি অসাধু চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

 

ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী শফিউল আমিনের মতে, ঘুষ প্রভাবের অভিযোগ নিয়োগব্যবস্থার প্রতি আস্থা নষ্ট করছে। তিনি স্বচ্ছ জবাবদিহিমূলক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিয়োগ সম্পন্ন করার আহ্বান জানান। তরুণদের অনেকেই মনে করেন, অনিয়মে জড়িতদের কঠোর শাস্তি পরীক্ষায় স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা উচিত।

 

ভ্যারিফিকেশন প্রশাসনিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা

 

সরকারি চাকরিতে যোগদানের আগে পুলিশ যাচাই প্রক্রিয়া নিয়েও বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ ওঠে। আইইউবিএটির প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোহসীন মোস্তফা আরাফাত বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউকে যেন বঞ্চিত না করা হয়। ফৌজদারি অপরাধ ছাড়া অন্য কোনো কারণে নিয়োগ আটকে রাখা বা আর্থিক অনিয়মের সুযোগ যেন না থাকে জন্য একটি স্পষ্ট নীতিমালা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

 

বিশ্লেষকদের মতে, সুশাসন গণতান্ত্রিক পরিবেশ শক্তিশালী হলে বিনিয়োগ বাড়বে, যা কর্মসংস্থানে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

 

দ্রুত নিয়োগ বাস্তবায়নের দাবি

 

বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এই বড় জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তর করা সরকারের অন্যতম চ্যালেঞ্জ। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার অর্পা বলেন, বহু খাতে পদ শূন্য থাকলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া ঝুলে আছে। দ্রুত ফল প্রকাশ নিয়মিত নিয়োগ কার্যক্রম চালুর দাবি জানান তিনি।

 

তরুণ প্রজন্ম আশা করছে, নতুন সরকার ঘোষিত প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিয়ে স্বচ্ছ মেধানির্ভর কর্মসংস্থানের পরিবেশ নিশ্চিত করবে।