নারীপ্রধান পরিবারের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু হচ্ছে, প্রথম ধাপে সুবিধা পাবেন ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ মার্চ ২০২৬ , ০৫:১২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

 নারীর ক্ষমতায়ন, অধিকার, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে নারীপ্রধান পরিবারের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। পাইলট কর্মসূচির প্রথম ধাপে দেশের বিভিন্ন এলাকার ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবার এ কার্ডের আওতায় আসবে।

মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকাল ১০টায় রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে (কড়াইল বস্তি সংলগ্ন) এ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী Tarique Rahman।

 

সোমবার (৯ মার্চ) সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী Abu Zafar Mohammad Zahid Hossain। এ সময় অর্থমন্ত্রী Amir Khasru Mahmud Chowdhury উপস্থিত ছিলেন।

 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন ও সামাজিক ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারে নারীকে প্রধান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে তার নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ প্রদান করা হবে, যাতে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া যায়।

 

তিনি জানান, পাইলট প্রকল্পের আওতায় দেশের ১৩টি জেলার বিভিন্ন সিটি করপোরেশন ও ইউনিয়নের মোট ১৫টি ওয়ার্ডে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

 

ওয়ার্ড কমিটির সদস্যরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা, সদস্যসংখ্যা, শিক্ষা, বাসস্থান এবং গৃহস্থালি সামগ্রী—যেমন টিভি, ফ্রিজ, কম্পিউটার ও মোবাইল—এছাড়া রেমিট্যান্স প্রবাহসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেন। পরে এসব তথ্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে যাচাই করা হয়।

 

পাইলট পর্যায়ে মোট ৬৭ হাজার ৮৫৪টি নারীপ্রধান পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। এরপর সফটওয়্যারভিত্তিক প্রক্সি মিনস টেস্টের মাধ্যমে পরিবারগুলোকে হতদরিদ্র, দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত—এই পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।

 

এর মধ্যে হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্ন মধ্যবিত্ত হিসেবে চিহ্নিত ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য যাচাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারকে সঠিক পাওয়া যায়। পরবর্তীতে একাধিক ভাতা গ্রহণ, সরকারি চাকরি বা পেনশন সুবিধা ইত্যাদি বিবেচনায় নিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।

 

মন্ত্রী বলেন, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াটি সফটওয়্যারভিত্তিক হওয়ায় দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানুয়াল হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই।

 

ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি নারীপ্রধান পরিবারকে একটি স্মার্ট কার্ড দেওয়া হবে। স্পর্শবিহীন চিপযুক্ত এ কার্ডে কিউআর কোড ও এনএফসি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা নিরাপদ ও দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে জানানো হয়েছে।

 

প্রতিটি কার্ডের মাধ্যমে একটি পরিবারের পাঁচজন সদস্য সুবিধা পাবেন। তবে যৌথ বা বড় পরিবারে সদস্যসংখ্যা বেশি হলে আনুপাতিক হারে একাধিক কার্ড দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

 

এই কর্মসূচির আওতায় উপকারভোগী পরিবারগুলো মাসিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভাতা পাবে। ভবিষ্যতে একই মূল্যের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানান মন্ত্রী।

 

তিনি আরও বলেন, যদি কোনো নির্বাচিত নারী পরিবারপ্রধান অন্য কোনো সরকারি ভাতা পান, তবে সেই সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। তবে পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাপ্ত ভাতা চালু থাকবে।

 

এ ছাড়া সরকারি চাকরি, স্বায়ত্তশাসিত বা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সদস্য থাকা, বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বা বাণিজ্যিক লাইসেন্স থাকা, বিলাসবহুল সম্পদ (যেমন গাড়ি বা এসি) থাকা কিংবা পাঁচ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র থাকলে সেই পরিবার ভাতার জন্য অযোগ্য বিবেচিত হবে।

 

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ থেকে এই ভাতা জি-টু-পি (গভর্নমেন্ট টু পারসন) পদ্ধতিতে সরাসরি উপকারভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে। ফলে মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সুবিধাভোগীরা সরাসরি সরকারের কাছ থেকে অর্থ সহায়তা পাবেন।

 

মন্ত্রী জানান, পাইলট পর্যায়ে জুন ২০২৬ পর্যন্ত কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য মোট ৩৮ কোটি ৭ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৫ কোটি ১৫ লাখ টাকা সরাসরি নগদ সহায়তা হিসেবে বিতরণ করা হবে এবং বাকি অর্থ তথ্য সংগ্রহ, অনলাইন সিস্টেম উন্নয়ন ও কার্ড প্রস্তুতিসহ প্রশাসনিক কাজে ব্যয় করা হবে।

 

এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করা হয়েছে এবং তা Ministry of Social Welfare Bangladesh–এর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।