মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ: এপ্রিল নিয়ে শঙ্কা, তবে ‘সংকট নেই’ বলছে সরকার

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৬ , ১২:০৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রভাবে নির্ধারিত সময়ে কয়েকটি জ্বালানিবাহী জাহাজ দেশে পৌঁছাতে পারেনি। এতে বাংলাদেশে জ্বালানি তেল সরবরাহ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

যদিও বিকল্প উৎস থেকে আমদানির চেষ্টা চলছে, তবুও সব ক্ষেত্রে এখনো নিশ্চিত সমাধান পাওয়া যায়নি। ফলে আসন্ন এপ্রিল মাসে সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে কি নাতা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

 

এ বিষয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম জানিয়েছেন, দেশে এখনো জ্বালানি তেলের কোনো সংকট তৈরি হয়নি। ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ এসেছে এবং আরো কয়েকটি আসার কথা রয়েছে। এপ্রিল মাসের আমদানির সূচি চূড়ান্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

 

তিনি আরও বলেন, প্রয়োজনে খোলাবাজার থেকেও পরিশোধিত ডিজেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

আতঙ্কে বাড়ছে চাপ

 

সরকারি আশ্বাস থাকা সত্ত্বেও সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে আগাম ডিজেল, অকটেন ও পেট্রল কিনে মজুদ করায় সরবরাহ ব্যবস্থায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তেল পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষার খবর পাওয়া গেছে।

 

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, গত সোমবার পর্যন্ত দেশে প্রায় ১৪ দিনের ডিজেল মজুদ ছিল।

 

মজুদের বর্তমান চিত্র

 

বিপিসির তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ৬৫৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে।

 

বর্তমান মজুদ পরিস্থিতি

 

ডিজেল: ১.৮৫ লাখ টন (প্রায় ১৪ দিনের চাহিদা)

অকটেন: ১১ হাজার টন (৯ দিন)

পেট্রল: ১৬,৬০৫ টন (১১ দিন)

ফার্নেস তেল: ৭০,৮৩৩ টন (২৯ দিন)

জেট ফুয়েল: ৩৪,৮৭৭ টন (২৩ দিন)

কেরোসিন: ৮,৫৭১ টন (৪৬ দিন)

মেরিন ফুয়েল: প্রায় ১,৫০০ টন (৪৪ দিন)

 

এছাড়া ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড-এ বর্তমানে ৮০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল মজুদ রয়েছে, যা দিয়ে আরও ১৭১৮ দিন উৎপাদন চালানো সম্ভব।

 

চাপের তিন কারণ

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহে তিনটি বড় চাপ একসঙ্গে কাজ করছে

১. জাহাজ আসতে বিলম্ব

২. আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি

৩. আতঙ্কে চাহিদার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি

 

বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী-তে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

 

সরকারের আশ্বাস

 

এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, দেশে পর্যাপ্ত জ্বালানি তেলের মজুদ রয়েছে এবং কোনো সংকট হবে না।

 

তিনি বলেন, হঠাৎ চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে। জনগণকে অতিরিক্ত তেল মজুদ না করার আহ্বান জানান তিনি।

 

তবে সরকারের আশ্বাসের পরও বাজারে অনিশ্চয়তা পুরোপুরি কাটেনি। অনেক পাম্পে সরবরাহ সীমিত করা হয়েছে, কোথাও কোথাও বন্ধও রয়েছে। আমদানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এবং আতঙ্কজনিত চাহিদা নিয়ন্ত্রণে না এলে সামনে জ্বালানি সরবরাহ আরও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।