দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি, জরুরি টিকাদান কর্মসূচিতে ১০ লাখের বেশি শিশু অন্তর্ভুক্ত

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:২৫ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশ- গত দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ সংখ্যক হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর ঘটনা সামনে আসার পর সরকার জরুরি ভিত্তিতে বৃহৎ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। এই কর্মসূচির আওতায় ১০ লক্ষাধিক শিশুকে টিকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এপ্রিল পর্যন্ত হাম-সদৃশ উপসর্গে অন্তত ৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম-জনিত মৃত্যু ১৭টি বলে জানানো হয়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যার বিস্তার রোধে জনসংখ্যার অন্তত ৯৫ শতাংশের টিকাদান নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টিকাদানে ঘাটতি এবং বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির দীর্ঘ বিরতির কারণে সংক্রমণ বেড়েছে। সর্বশেষ জাতীয় কর্মসূচি চালু হয় ২০২০ সালে, আর ২০২৪ সালের পরিকল্পিত কর্মসূচি রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে স্থগিত হয়।

 

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার টিকা দেওয়ার বয়সসীমা মাস থেকে কমিয়ে মাস করেছে। রোববার ( এপ্রিল) থেকে শুরু হওয়া এই কার্যক্রম প্রথমে ১৮টি জেলার ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় পরিচালিত হচ্ছে এবং আগামী মে থেকে তা সারা দেশে বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

 

এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউনিসেফ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং বৈশ্বিক টিকা জোট গাভির সহযোগিতা রয়েছে। রাজধানী ঢাকা এবং কক্সবাজার-এর ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাগুলোতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

 

মাস থেকে বছর বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, বিশেষ করে যারা নিয়মিত টিকা পায়নি এবং ঝুঁকিতে রয়েছে।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, হাসপাতালগুলোতে ইতোমধ্যে রোগীর চাপ বেড়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। হাম সাধারণত সর্দি-কাশির মতো উপসর্গ দিয়ে শুরু হয় এবং কয়েক দিনের মধ্যে মুখ কানের পেছন থেকে শুরু হয়ে সারা শরীরে ফুসকুড়ি ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়ায়।

 

বিশ্বজুড়েও টিকাদানের হার কমে যাওয়ায় হাম পুনরায় বিস্তার লাভ করছে। বাংলাদেশেও সাম্প্রতিক সামাজিক রাজনৈতিক অস্থিরতার প্রভাব টিকাদান কার্যক্রমে পড়ায় এই প্রাদুর্ভাব আরও তীব্র হয়েছে।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে মাস থেকে বছর বয়সী অন্তত হাজার ৪৭৬ শিশুর মধ্যে হাম-সদৃশ উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, আক্রান্ত মৃত্যুর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ব্যাপক টিকাদানই এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


দেশজুড়ে/সবুজ