দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ আগস্ট ২০২৬ , ০৬:০৯ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
রাজধানীর
সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক স্বীকৃতি, ভূমির
অধিকার নিশ্চিত এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে কার্যকর করার
দাবি জানিয়েছেন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক
ভূমি কমিশন গঠন এবং তাদের সংস্কৃতি, মাতৃভাষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ঐতিহ্যগত জ্ঞান সংরক্ষণে
কার্যকর সরকারি উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বৃহস্পতিবার
(৬ আগস্ট) অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (এএলআরডি), বাংলাদেশ
আদিবাসী ফোরামসহ জাতীয় পর্যায়ের ১৭টি অধিকারভিত্তিক সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে ‘আদিবাসী জনগণ:
জীবন, ভূমি অধিকার ও সংস্কৃতির সম্মান’ শীর্ষক এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়। এতে
সভাপতিত্ব করেন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা।
সেমিনারে
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকারকর্মী ইলিরা দেওয়ান। তিনি সংবিধানের ২৩(ক) অনুচ্ছেদে
ব্যবহৃত ‘উপজাতি’ ও ‘নৃ-গোষ্ঠী’ শব্দের পরিবর্তে আদিবাসীদের কাছে গ্রহণযোগ্য পরিভাষা ব্যবহারের
সুপারিশ করেন। পাশাপাশি পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনকে সক্রিয় করা,
সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন এবং আদিবাসী এলাকায় পর্যটন উন্নয়নের আগে
তাদের জীবনধারা ও সংস্কৃতি সুরক্ষায় নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান।
আলোচনায়
সংসদ সদস্য আন্না মিনজ বলেন, অতীতের বঞ্চনার পাশাপাশি সরকারের নেওয়া ইতিবাচক উদ্যোগগুলোকেও
মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। তিনি বর্তমান সরকারের বিভিন্ন নীতিপত্র ও কর্মসূচিতে আদিবাসীদের
উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত হওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
সংসদ
সদস্য অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা বলেন, জুম চাষকে পরিবেশবিনাশী হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক
নয়; বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এটি পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি হিসেবে স্বীকৃত। তিনি আদিবাসীদের
মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী
করতে সরকারের সঙ্গে কাজ করার আশ্বাস দেন।
ট্রান্সপারেন্সি
ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, কোনো বিতর্ক
ছাড়াই আদিবাসীদের সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে তাদের প্রথাগত ভূমির মালিকানার
আইনগত স্বীকৃতি এবং সংসদীয় আদিবাসীবিষয়ক ককাস গঠনের আহ্বান জানান তিনি।
গবেষক
ও নৃবিজ্ঞানী ড. ঈশিতা দস্তিদার জানান, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভূমি বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশনে
২৭ হাজারের বেশি আবেদন জমা থাকলেও কমিশনের কার্যক্রম কার্যত স্থবির। তিনি দ্রুত কমিশনকে
সক্রিয় করা, আদিবাসীদের ভূমি অধিকার নিশ্চিত করা এবং উন্নয়ন প্রকল্প ও ইকো-ট্যুরিজম
বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
বাংলাদেশ
মহিলা পরিষদের সভানেত্রী ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, আদিবাসীদের সংস্কৃতি ও সামাজিক জীবন
ভূমির সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। তিনি ভূমিহীনতা রোধ এবং আদিবাসীদের ন্যায্য ভূমি অধিকার
নিশ্চিত করতে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।
আদিবাসী
ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, বৈষম্যমুক্ত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়তে
আদিবাসীদের বাদ দিয়ে কোনো উদ্যোগ সফল হতে পারে না। তিনি সরকারের ইতিবাচক ঘোষণাগুলোর
বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সমাপনী বক্তব্যে শামসুল হুদা বলেন, আদিবাসীদের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের ইতিবাচক বক্তব্য আশাব্যঞ্জক হলেও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি সরকারিভাবে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস পালনের আহ্বান জানান তিনি।
দেশজুড়ে/ডেস্ক