দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০২ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৫৬ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ঢাকা
প্রতিনিধি: দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে নিয়মিত টিকা নেওয়ার বয়স না হওয়া ৯
মাসের কম বয়সী শিশুরা।
একই সঙ্গে গবেষণায় এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যা থেকে ধারণা
করা যায় যে হাম ভাইরাসের
জিনগত পরিবর্তনের কারণে বর্তমানে ব্যবহৃত টিকার কার্যকারিতা কমে গেছে।
রোববার
(২ আগস্ট) প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি) এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি
জানায়, সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে ভাইরাসে এমন কোনো জিনগত পরিবর্তন ঘটেছে কি না, যা
টিকার সুরক্ষা এড়িয়ে যেতে পারে—এমন প্রশ্ন উঠেছিল। তবে প্রাথমিক গবেষণার ফলাফলে সেই আশঙ্কার পক্ষে কোনো প্রমাণ মেলেনি।
গবেষণায়
দেখা গেছে, সুপারিশকৃত দুই ডোজ হামের টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে রোগ শনাক্তের হার তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়া জিনগত বিশ্লেষণে বর্তমানে ছড়িয়ে পড়া ভাইরাসটি বি৩ (B3) জিনোটাইপ, যা বিশ্বের বিভিন্ন
দেশের সাম্প্রতিক হাম প্রাদুর্ভাবেও শনাক্ত হয়েছে।
আইসিডিডিআর,বি-এর ভাইরোলজি
ল্যাবরেটরির সহযোগী বিজ্ঞানী নূরজাহান মালিহা বলেন, দুই ডোজ টিকা পাওয়া শিশুদের মধ্যে হাম শনাক্তের হার কম পাওয়া গেছে।
তবে এই হাসপাতালভিত্তিক অনুসন্ধান থেকে
সার্বিক জনসংখ্যায় টিকার কার্যকারিতার নির্দিষ্ট হার নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে
২৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে ১ লাখ ২২
হাজার ৭৬৩ জন সন্দেহভাজন হাম
রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে
১৫ হাজার ২৭২ জনের হাম নিশ্চিত হয়েছে। একই সময়ে হামজনিত সন্দেহভাজন ৭২১টি এবং পরীক্ষায় নিশ্চিত ৯৫টি মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে।
গবেষণাটি
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট এবং
আইসিডিডিআর,বি যৌথভাবে পরিচালনা
করে। ২০ এপ্রিল থেকে
২১ মে পর্যন্ত হামের
উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১৪ বছরের কম
বয়সী ৩৪১ জন শিশুকে গবেষণায়
অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এর মধ্যে ৩২৪
জনের হাম পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়।
সবচেয়ে
বেশি আক্রান্ত ছিল ৩ থেকে ৮
মাস বয়সী শিশুরা। এই বয়সের ১৪১
শিশুর মধ্যে ১৩৭ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ পাওয়া যায়।
গবেষকরা
বয়স ও টিকা গ্রহণের
ভিত্তিতে শিশুদের চারটি দলে ভাগ করেন। এতে দেখা যায়—
৯
মাসের কম বয়সী (টিকা
নেওয়ার বয়স হয়নি) ১৪৬ শিশুর মধ্যে ১৪২ জন (৯৭.৩%) আক্রান্ত।
টিকা
নেওয়ার বয়স হলেও কোনো ডোজ না পাওয়া ১২৬
শিশুর মধ্যে ১২২ জন (৯৭%) আক্রান্ত।
এক
ডোজ টিকা পাওয়া ৪৮ শিশুর মধ্যে
৪৪ জন (৯২%) আক্রান্ত।
দুই
ডোজ টিকা পাওয়া ২১ শিশুর মধ্যে
১৬ জন (৭৬%) আক্রান্ত।
গবেষকদের
মতে, টিকা না পাওয়া শিশুদের
তুলনায় দুই ডোজ টিকা গ্রহণকারীদের মধ্যে আক্রান্তের হার কম হওয়া টিকার
সুরক্ষামূলক ভূমিকার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তবে যেসব শিশু হামে আক্রান্ত হয়নি, তারা এই গবেষণার আওতায়
ছিল না। তাই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে মূল্যায়নে আরও বড় পরিসরের গবেষণা
প্রয়োজন।
আইসিডিডিআর,বি-এর নির্বাহী
পরিচালক তাহমিদ আহমেদ বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধান গুরুত্বপূর্ণ কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েছে। তবে টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশু কেন আক্রান্ত হচ্ছে, গুরুতর অসুস্থতা ও মৃত্যুর কারণ,
অপুষ্টির প্রভাব এবং মায়ের কাছ থেকে পাওয়া অ্যান্টিবডির সুরক্ষা কতদিন থাকে—এসব বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণা চলবে।
এদিকে
সংক্রামক রোগ বিভাগের জ্যেষ্ঠ পরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, হাম প্রতিরোধ এবং গুরুতর জটিলতার ঝুঁকি কমাতে টিকাই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। একই সঙ্গে জাতীয় পর্যায়ে টিকাদানের হার তুলনামূলকভাবে বেশি থাকার পরও কেন এত বড় প্রাদুর্ভাব
ঘটেছে, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
দেশজুড়ে/ডেস্ক