সরকারি ক্রয়ে বড় পরিবর্তন: সংসদে পাস ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল-২০২৬’

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:৩০ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দেশের সরকারি ক্রয় ব্যবস্থাকে আধুনিক, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) বিল-২০২৬’। দীর্ঘদিনের পুরোনো আইনকে আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে এই বিল গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বিলটি উত্থাপন করেন এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

 

নতুন এই আইনের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার পাশাপাশি দক্ষতা, নৈতিকতা, গুণগত মান, টেকসই উন্নয়ন এবং ‘ভ্যালু ফর মানি’ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পূর্বে জারি করা ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’কে আইনে রূপ দেওয়া হয়েছে।

 

প্রথমবারের মতো আইনে যুক্ত হয়েছে ‘সাস্টেইনেবল পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (এসপিপি)’ ধারণা। এর ফলে সরকারি ক্রয়ে পরিবেশ সংরক্ষণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন বিবেচনায় নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে।

 

নতুন ধারায় টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এমন কোনো শর্ত আরোপ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, যা পরিবেশের ক্ষতি করে বা শ্রমিকদের অধিকার ক্ষুণ্ন করে—যেমন শিশুশ্রম বা ন্যায্য মজুরি না দেওয়া।

 

প্রযুক্তিনির্ভরতা বাড়াতে ‘রিভার্স অকশন’ চালুর প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যেখানে সরবরাহকারীরা প্রতিযোগিতামূলকভাবে কম দামে দরপত্র জমা দিয়ে কাজ পাওয়ার সুযোগ পাবেন। এতে সরকারি ব্যয় কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

 

এছাড়া সব ধরনের সরকারি ক্রয় কার্যক্রমে ইলেকট্রনিক গভর্নমেন্ট প্রকিউরমেন্ট (ই-জিপি) পোর্টাল ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ব্যতিক্রম হলে বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অথরিটির পূর্বানুমোদন নিতে হবে।

 

বিলটিতে বিপিপিএ-কে প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে শক্তিশালী করা হয়েছে এবং ‘ফিজিক্যাল সার্ভিসেস’কে নতুন ক্রয় ক্যাটাগরি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্টের ব্যবহার বাড়িয়ে একাধিক সংস্থার জন্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পণ্য ক্রয় সহজ করার সুযোগ রাখা হয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক কার্যক্রম সহজ করতে বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস ও মিশনগুলোকে স্থানীয় আইন বা আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী ক্রয় পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, তবে এ ক্ষেত্রে মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন হবে।

 

দেশীয় আইটি খাতকে সুরক্ষা দিতে আন্তর্জাতিক দরপত্রে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানকে যৌথ অংশীদার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার বিধান রাখা হয়েছে।

 

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, ২০০৬ সালের আইনের বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে উঠতে এবং বৈশ্বিক মানের সঙ্গে তাল মেলাতে এই সংশোধন আনা হয়েছে। তিনি বলেন, নতুন আইনের মাধ্যমে সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতা বাড়বে, ব্যয় কমবে এবং সামগ্রিকভাবে দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।


দেশজুড়ে/সবুজ