দই না ঘোল—পেটের জন্য কোনটি বেশি উপকারী?

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১১:২৭ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় দই দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ স্থান দখল করে আছে। বিশেষ করে পেট ভালো রাখতে এবং হজমশক্তি উন্নত করতে দই খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন চিকিৎসকেরা। তবে অনেক সময় দইয়ের বদলে ঘোল খেতেও বলা হয়। প্রশ্ন উঠছেদই ও ঘোলের মধ্যে কোনটি বেশি উপকারী, আর কার জন্য কোনটি ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, টক দই প্রোবায়োটিকের একটি উৎকৃষ্ট উৎস। প্রোবায়োটিক হলো উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে ও হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে। সকালে বা দুপুরের খাবারের পর এক বাটি টক দই খেলে হজমে উপকার মেলে। অনেকেই দইয়ের সঙ্গে শসা মিশিয়েও খান, যা পেটের জন্য আরামদায়ক।

 

অন্যদিকে দই ভালো করে ফেটিয়ে তার সঙ্গে পুদিনা, ভাজা জিরা, আদা ও হালকা মশলা মিশিয়ে তৈরি করা হয় ঘোল। এটি সহজপাচ্য এবং শরীরকে সতেজ রাখতেও সহায়ক।

 

পুষ্টিগুণের দিক থেকে পার্থক্য

 

পুষ্টিবিদদের মতে, দইয়ে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিন বি-১২ পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। এটি হাড় ও দাঁত মজবুত করতে সহায়তা করে এবং পেশি গঠনে ভূমিকা রাখে। যাদের প্রোটিনের চাহিদা বেশি, শিশু-কিশোরদের বৃদ্ধি পর্যায়ে কিংবা দীর্ঘদিন অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের পর অন্ত্রের সুস্থতা ফেরাতে দই উপকারী হতে পারে। গ্যাস-অম্বলের সমস্যা না থাকলে এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে দই খাওয়া ভালো ফল দিতে পারে।

 

অন্যদিকে ঘোল তুলনামূলকভাবে কম ক্যালোরি ও কম ফ্যাটযুক্ত। তাই যাদের স্থূলতার সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য ঘোল উপকারী। বদহজম, গ্যাস বা অ্যাসিড রিফ্লাক্সে ভুগলে দইয়ের বদলে ঘোল খেলে বেশি স্বস্তি মিলতে পারে। এছাড়া ঘোল শরীরকে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করে, ফলে ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতার ঝুঁকি কমাতে কার্যকর।

 

খাবারে অরুচি থাকলে আদা, বিট লবণ ও জিরাগুঁড়ো মিশিয়ে ঘোল পান করলে রুচি বাড়তে পারে বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।

 

কারা সতর্ক থাকবেন?

 

যাদের ল্যাক্টোজ ইনটলারেন্স রয়েছে, অর্থাৎ দুধ বা দুগ্ধজাত খাবারে অস্বস্তি হয়, তাদের জন্য দইয়ের চেয়ে পাতলা ঘোল তুলনামূলকভাবে সহনীয় হতে পারে। আবার দীর্ঘদিন হাঁপানি, সিওপিডি বা শ্বাসজনিত সমস্যায় ভোগা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে দই খেলে কারও কারও শ্লেষ্মা বৃদ্ধি পেতে পারেএক্ষেত্রে ঘোল বিকল্প হতে পারে।

 

উপসংহার

 

সব মিলিয়ে দই ও ঘোলদুটিই উপকারী। তবে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, হজমক্ষমতা ও পুষ্টি চাহিদার ওপর নির্ভর করে কোনটি বেশি উপযোগী হবে। তাই নিয়মিত সমস্যায় ভুগলে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করাই উত্তম।


দেশজুড়ে/সবুজ