বারবার ব্যর্থতার পর জয়, টাঙ্গাইল-১ থেকে এমপি হয়ে মন্ত্রিসভায় ফকির মাহবুব আনাম

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১২:০২ এএম

অনলাইন সংস্করণ

নির্বাচনী রাজনীতিতে একাধিকবার পরাজয় মনোনয়নবঞ্চনার অভিজ্ঞতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সফলতার মুখ দেখলেন ফকির মাহবুব আনাম (স্বপন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে টাঙ্গাইল- (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসন থেকে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপির মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতাদের ভাষ্য, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের পাশাপাশি দলীয় অভ্যন্তরীণ বিরোধিতার মুখেও তিনি রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও মধুপুর ধনবাড়ীর মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় মনোযোগী ছিলেন তিনি। এবারের নির্বাচনে সেই প্রচেষ্টারই প্রতিফলন ঘটেছে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার সন্তান ফকির মাহবুব আনামের পারিবারিক রাজনৈতিক পরিচিতিও রয়েছে। তাঁর চাচা আফাজ উদ্দিন ফকির টাঙ্গাইল- আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আরেক চাচা লোকমান হোসেন ফকির একজন পরিচিত গীতিকার।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, শুরুতে তিনি নিজ এলাকা টাঙ্গাইল- থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও পরে দলীয় পরামর্শে টাঙ্গাইল- আসনে সক্রিয় হন। ২০০০ সালের দিকে মধুপুরে বসতি স্থাপন করে স্থানীয় রাজনীতিতে যুক্ত হন। তবে তাঁর আগমনকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির একটি অংশের আপত্তি ছিল।

২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেও দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট বিভক্ত হয় এবং তিনি পরাজিত হন। ২০০৮ সালেও মনোনয়ন পেলেও জয় পাননি। ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি মনোনয়নবঞ্চিত হন। তবুও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে সরে যাননি।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আবারও বিএনপির মনোনয়ন পান। নির্বাচনে শুরুতে একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী থাকলেও শেষ পর্যন্ত প্রধান বিদ্রোহী প্রার্থী সরে দাঁড়ান। ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে ফকির মাহবুব আনাম লাখ ৫৩ হাজার ৯৩২ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আব্দুল্লাহেল কাফি পান ৯৪ হাজার ৪৬২ ভোট। জয়ের মাধ্যমে দীর্ঘ ৪৫ বছর পর আসনটি বিএনপির দখলে আসে।

মধুপুরের ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর নেতারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন। স্থানীয় বিএনপি নেতারাও মনে করেন, তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করার ফলেই তিনি জনগণের সমর্থন অর্জন করতে পেরেছেন।

নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত ফকির মাহবুব আনামের মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় কোটি ৯২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা। তাঁর বার্ষিক আয় ২২ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। তাঁর স্ত্রী রেশমা আনামের সম্পদের পরিমাণ প্রায় কোটি ৫৮ লাখ হাজার টাকা এবং বার্ষিক আয় ১৩ লাখ ১১ হাজার ২৫০ টাকা। তাঁদের দুই সন্তানের সম্পদের পরিমাণ যথাক্রমে প্রায় ৭৯ লাখ ৮১ হাজার ৬৮ লাখ ২৮ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।