উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারি বৃষ্টি, সাত নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে—বন্যার আশঙ্কা বাড়ছে

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৪ মে ২০২৬ , ০৪:১১ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে টানা মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাতের কারণে সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা বন্যার আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।

সোমবার ( মে) পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্র তথ্য জানিয়েছে। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় অঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

তথ্য অনুযায়ী, নেত্রকোনার জারিয়াজঞ্জাইলে ৭৪ মিলিমিটার, হবিগঞ্জ সদরে ৭৪ মিলিমিটার এবং চাঁদপুর-বাগানে ৬১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।

সকাল ৯টার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, হাওর বেসিনের তিন জেলার সাতটি নদীর আটটি পর্যবেক্ষণ স্টেশনে পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

নদীগুলোর মধ্যে সুনামগঞ্জের নলজুর নদীর পানি জগন্নাথপুর পয়েন্টে ১১ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। নেত্রকোনার ধনু-বাউলাই নদী জারিয়াজঞ্জাইলে সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

এছাড়া সোমেশ্বরী নদী কলমাকান্দা পয়েন্টে কিছুটা কমলেও এখনও বিপৎসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপরে রয়েছে। ভুগাই-কংশ নদী এবং মগরা নদীর পানিও বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার অনেক ওপরে অবস্থান করছে।

হবিগঞ্জ জেলার কালনি নদী আজমিরিগঞ্জ পয়েন্টে ১৫ সেন্টিমিটার বেড়ে ১০ সেন্টিমিটার ওপরে এবং সুতাং নদী সুতাং রেলব্রিজ পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে ৮৩ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো জানিয়েছে, সুনামগঞ্জের হাওর অঞ্চলে নদীগুলোর পানি ঘণ্টায় শূন্য থেকে সেন্টিমিটার হারে ধীরগতিতে বাড়ছে। তবে উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

এদিকে ভারতের মেঘালয় আসাম অঞ্চলেও মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টিপাত হয়েছে। বিশেষ করে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ এবং স্থানীয় বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে হাওর অঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোর মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।