দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬ , ০৮:১৭ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
জাতীয়
সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিশেষ অধিবেশন আহ্বান নিয়ে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে
তীব্র বিতর্ক দেখা দিয়েছে। রোববার (২৯ মার্চ) অধিবেশনে এ ইস্যুতে উত্তপ্ত পরিবেশ তৈরি
হয়।
বিরোধীদলীয়
নেতা শফিকুর রহমান (জামায়াতে ইসলামীর আমির) ‘জুলাই জাতীয় সনদ ও সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন
আদেশ ২০২৫’-এর আলোকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের
বিশেষ অধিবেশন আহ্বানের দাবি জানান। প্রশ্নোত্তর পর্ব শেষে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে
তিনি বলেন, স্পিকারের পূর্ব নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি এ নোটিশ উত্থাপন করেছেন এবং আলোচনার
জন্য অনুমোদন আশা করেন।
তবে
এ সময় আপত্তি জানান সরকারি দলের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি সংসদীয় রীতির কথা তুলে
ধরে বলেন, প্রশ্নোত্তর পর্ব ও ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পরই এ ধরনের বিষয় উত্থাপন করা উচিত।
বিরোধীদলীয়
নেতা তার অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, স্পিকারের আগের নির্দেশনা অনুযায়ীই তিনি সঠিক সময়ে
বিষয়টি তুলেছেন এবং এটি তার সাংবিধানিক অধিকার।
এ
সময় বক্তব্য রাখতে চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, তবে বিরোধী সদস্যদের আপত্তিতে
পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে তিনি বলেন, বিষয়টি স্পিকারের এখতিয়ার এবং নিয়ম
অনুযায়ী আলোচনার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সেটি সিদ্ধান্ত নেবেন স্পিকারই।
পরে
বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ গঠনের সময় গণভোট হয়েছিল—এই বাস্তবতা ভুলে গেলে চলবে না। তিনি গণভোট ও জুলাই সনদ
নিয়ে সংসদে আলোচনা দাবি করেন।
পরিস্থিতি
সামাল দিতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ এবং নির্ধারিত
সময় অনুযায়ী আলোচনা করা হবে।
শেষ
পর্যন্ত ডেপুটি স্পিকার জানান, ৭১ বিধি শেষ হওয়ার পর নোটিশটি নিয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়া
হবে। পরে স্পিকারের পক্ষ থেকে পরবর্তী কার্যদিবসে বা নির্ধারিত সময়ে এ বিষয়ে আলোচনার
আশ্বাস দেওয়া হলে উত্তেজনা প্রশমিত হয়।
👉 সংসদীয় নিয়ম, সময় নির্ধারণ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের এই টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নটি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুরুত্ব পাচ্ছে।
দেশজুড়ে/সবুজ