মালয়েশিয়া কর্মী পাঠানো নিয়ে হাজার কোটি টাকার সিন্ডিকেট অভিযোগ, আদালতে বিস্ফোরক জবানবন্দি

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৭:৩৩ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নামে হাজার হাজার কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের তথ্য সামনে এসেছে। আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে এই চক্রের কার্যক্রম সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেছেন এক রিক্রুটিং এজেন্সির ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

জানা গেছে, সাবেক প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী Imran Ahmad (ইমরান আহমেদ), সাবেক প্রধানমন্ত্রী Sheikh Hasina (শেখ হাসিনা)-এর উপদেষ্টা Salman F Rahman (সালমান এফ রহমান) এবং সাবেক অর্থমন্ত্রী A H M Mustafa Kamal (আ হ ম মোস্তফা কামাল, লোটাস কামাল)-এর নাম এই অভিযোগে উঠে এসেছে। এছাড়াও সিন্ডিকেটে আরও কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তি যুক্ত ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে।

 

তাদের মধ্যে রয়েছেনমাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, দাতু আমিন, রুহুল আমিন স্বপন, আলাউদ্দিন নাসিম, নিজাম হাজারী, বেনজীর আহমেদ, ড. মনিরুস সালেহীন, নূর আলী, আমিনুল ইসলাম বিন আব্দুল নুর, আবুল বাসার নূর আলী প্রমুখ।

 

রিক্রুটিং এজেন্সি মেসার্স ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম রফিক আদালতে ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ন্ত্রণ করত একটি সংঘবদ্ধ চক্র। সিন্ডিকেটের সদস্য হতে শুরুতেই বড় অঙ্কের অর্থ দিতে হতো এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ধাপে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হতো।

 

অভিযোগ অনুযায়ী, ‘আমি প্রবাসী নামে একটি অ্যাপ চালু করে প্রবাসে যেতে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের কাছ থেকে নিবন্ধন ফি নেওয়া হতো, যদিও এর কোনো সরকারি অনুমোদন ছিল না। এ ছাড়া কোভিড টেস্ট, পাসপোর্ট, মেডিকেল ও অন্যান্য খরচের নামে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগও উঠে এসেছে।

 

সরকার নির্ধারিত ফি প্রায় ৭৮ হাজার ৯৯০ টাকা হলেও বাস্তবে কর্মীদের কাছ থেকে কয়েকগুণ বেশি টাকা নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। টাকা না দিলে পাসপোর্ট আটকে রাখা, লাইসেন্স স্থগিত করা এবং বিভিন্নভাবে হয়রানির অভিযোগও রয়েছে।

 

এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ে অভিযোগ জানানো হলেও সমাধান না পেয়ে হাইকোর্টে রিট করা হয়। পরে আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে Anti-Corruption Commission (দুর্নীতি দমন কমিশন) এবং Bangladesh Bank (বাংলাদেশ ব্যাংক)-এর মানি লন্ডারিং শাখাকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেন।

 

এই ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে এবং প্রবাসী কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।


দেশজুড়ে/সবুজ