দেশজুড়ে ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ , ০৮:০৭ এএম
অনলাইন সংস্করণ
বিদ্যুৎ
ও জ্বালানি খাতের চলমান সংকট মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবদের নিয়ে
বিশেষ বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে গৃহীত পদক্ষেপ দ্রুত বাস্তবায়নের পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় নতুন উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সোমবার
বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দেশের গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সামগ্রিক জ্বালানি
পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের
সংঘাত ও আন্তর্জাতিক বাজারে
জ্বালানি সংকটের প্রভাব মোকাবিলায় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়। বৈঠকে
নতুন গ্যাসকূপ খনন, দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানো এবং সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হয়। সরকারি অফিস ও প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুতের
অপচয় কমানো এবং এসির তাপমাত্রা নির্দিষ্ট রাখাসহ সাশ্রয়ী
ব্যবহারের নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি না, সেটিও
পর্যালোচনা করা হয়।
জ্বালানি সংকটের মধ্যে সরকার আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় উৎস থেকে জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে
কয়লা উত্তোলন ও গ্যাস অনুসন্ধান
কার্যক্রম জোরদারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে স্থলভাগে ১৫০টি গ্যাসকূপ খননের লক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে ৩২টি কূপের ড্রিলিং ও ওয়ার্কওভার শেষ
হয়েছে। এসব কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ২৮৫ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্রেও আগ্রহ দেখা গেছে। এখন পর্যন্ত ১০টি দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান দরপত্র ও তথ্য প্যাকেজ কিনেছে। আগামী ৩০ নভেম্বর দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়। জ্বালানি সংকটের দ্রুত সমাধানে সৌরবিদ্যুৎকেও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
সরকারি
প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, বাজার ও বিভিন্ন স্থাপনায়
সৌর প্যানেল স্থাপনের পাশাপাশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সরকারি
সূত্র বলছে, এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির
ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।