দেশজুড়ে, ডেস্ক
প্রকাশিত: ০১ মার্চ ২০২৬ , ০৩:১৪ পিএম
অনলাইন সংস্করণ
ডোনাল্ড ট্রাম্প একসময় বিদেশে সামরিক হস্তক্ষেপের কড়া সমালোচক ছিলেন। ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগান তুলে তিনি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, যুক্তরাষ্ট্র আর অন্য দেশের সরকার পরিবর্তনের অভিযানে জড়াবে না। কিন্তু দ্বিতীয় মেয়াদে এসে তাঁর নীতিতে দৃশ্যমান পরিবর্তন নিয়ে ওয়াশিংটনে তুমুল আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রচারণার ভাষ্য বনাম বাস্তব পদক্ষেপ
২০১৬ সালের নির্বাচনে ট্রাম্প বলেছিলেন, দীর্ঘদিনের ব্যর্থ ‘রেজিম চেঞ্জ’ নীতি বন্ধ করতে হবে। ২০২৪ সালের প্রচারেও তিনি দাবি করেন, তাঁর নেতৃত্বে যুক্তরাষ্ট্র নতুন কোনো যুদ্ধে জড়ায়নি। একই সঙ্গে সতর্ক করেছিলেন, প্রতিদ্বন্দ্বীরা ক্ষমতায় এলে দেশ বড় সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে।
তবে সাম্প্রতিক ইরান–সংকটে তাঁর প্রশাসন সরাসরি সামরিক শক্তি প্রয়োগ করেছে। প্রেসিডেন্টের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও আঞ্চলিক কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করছিল। সেই প্রেক্ষাপটেই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি তাঁর।
‘কেন এখন’—উত্তর অধরা
ট্রাম্প আগেও দাবি করেছিলেন, ইরানের সামরিক সক্ষমতা বড় আকারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাই বিশ্লেষকদের প্রশ্ন—যদি তা-ই হয়ে থাকে, তাহলে নতুন করে আক্রমণের প্রয়োজনীয়তা কী? এ বিষয়ে প্রশাসনের ব্যাখ্যা স্পষ্ট নয়।
একই সঙ্গে তিনি ইরানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মন্তব্য করলেও সরাসরি সরকার পরিবর্তনের ঘোষণা দেননি। বরং বলেছেন, দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে ইরানের জনগণই।
রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
এই পদক্ষেপে কেবল বিরোধী শিবির নয়, রিপাবলিকানদের মধ্যেও মতভেদ দেখা গেছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, এতে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি অস্থিরতায় জড়িয়ে পড়তে পারে। অন্যদিকে সমর্থকেরা বলছেন, কঠোর অবস্থান ভবিষ্যতের বড় হুমকি প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম মেয়াদের তুলনায় দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প সিদ্ধান্ত গ্রহণে আরও দৃঢ় ও দ্রুত। তাঁর বর্তমান টিমও নীতিগতভাবে বেশি সমর্থনমূলক ভূমিকা পালন করছে।
সামনে অনিশ্চয়তা
যুক্তরাষ্ট্র আপাতত সীমিত সামরিক কৌশল বজায় রাখার ইঙ্গিত দিলেও পরিস্থিতির গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে ইরানের প্রতিক্রিয়া ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোর অবস্থানের ওপর।
সব মিলিয়ে, বিদেশে নতুন যুদ্ধ এড়ানোর যে অঙ্গীকার ট্রাম্প একসময় করেছিলেন, সাম্প্রতিক পদক্ষেপ সেই অবস্থানের সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ—তা নিয়েই এখন রাজনৈতিক বিতর্ক তুঙ্গে।
দেশজুড়ে/সবুজ