ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া তৎপরতায় চিন্তায় পশ্চিমা দেশগুলো

দেশজুড়ে ডেস্ক

দেশজুড়ে ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৭ মে ২০২৬ , ১০:২৮ এএম

অনলাইন সংস্করণ

মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলার পরিকল্পনায় ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর সম্পৃক্ততার অভিযোগ ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে হামলার ষড়যন্ত্রের অভিযোগে এক ইরাকি নাগরিকের বিরুদ্ধে মামলার নথি প্রকাশের পর বিষয়টি সামনে আসে।

মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, মোহাম্মদ আল সাদি নামের ওই ব্যক্তি ইরান ঘনিষ্ঠ ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠী কাতায়িব হিজবুল্লাহর জ্যেষ্ঠ পর্যায়ের সদস্য। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ইউরোপ, কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে একাধিক হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিশেষ করে ইহুদি উপাসনালয় ও মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন।

 

মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর বা আইআরজিসি দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশে তাদের বিরোধীদের টার্গেট করে আসছে। অতীতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি সরকারবিরোধী কর্মী মাসিহ আলিনেজাদকেও লক্ষ্যবস্তু করার চেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান সমর্থিত প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর কার্যক্রম এখন শুধু মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই; তারা ধীরে ধীরে পশ্চিমা দেশগুলোতেও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি ইরানের তথাকথিত “প্রতিরোধ অক্ষএর বিস্তৃত আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত বহন করে।

 

আদালতে জমা দেওয়া নথি অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে আল সাদি ইউরোপ ও কানাডায় অন্তত ২০টি হামলার পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, নিউইয়র্কের একটি সিনাগগ, লস অ্যাঞ্জেলেস ও অ্যারিজোনার বিভিন্ন স্থানে হামলার ছকও কষা হচ্ছিল।

 

তদন্তকারীরা কিছু ফোনালাপের অনুলিপি আদালতে জমা দিয়েছেন, যেখানে হামলার পরিকল্পনা ও কর্মী সংগ্রহ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এছাড়া ২০২০ সালে মার্কিন হামলায় নিহত ইরানি কমান্ডার কাশেম সোলেমানি এর সঙ্গে আল সাদির একটি ছবিও নথিতে যুক্ত করা হয়েছে।

 

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বেলজিয়ামের একটি ইহুদি উপাসনালয়ে অগ্নিসংযোগ এবং প্যারিসে ব্যাংক অব আমেরিকা ভবনে হামলার ঘটনাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল। এসব হামলার দায় প্রথমে একটি অজ্ঞাত গোষ্ঠী স্বীকার করলেও পরে তদন্তকারীরা সেটিকে কাতায়িব হিজবুল্লাহর ছদ্মনাম বলে সন্দেহ করেন।

 

আল সাদির আইনজীবী আদালতে তাকে ‘রাজনৈতিক বন্দি ও ‘যুদ্ধবন্দি হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তবে কাতায়িব হিজবুল্লাহ এখনো এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

 ইরাকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং মোহাম্মদ আল সাদির পরিচিত তিন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ইরানি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন ইরাকি মিলিশিয়া গোষ্ঠীর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছিল। তবে তিনি সরাসরি কাতায়িব হিজবুল্লাহর সদস্য ছিলেন কি না, সে বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন।

 

তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, সাদি আঞ্চলিক বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং ইরান-ঘনিষ্ঠ মহলেও তার পরিচিতি ছিল। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগে যেভাবে তাকে কাতায়িব হিজবুল্লাহর উচ্চপর্যায়ের সদস্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে, সে দাবির পক্ষে তারা স্পষ্ট কোনো তথ্য জানেন না।

 

এদিকে মার্কিন তদন্তকারীরা দাবি করেছেন, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পরিকল্পনার সঙ্গে সাদির সম্পৃক্ততার প্রমাণ তাদের হাতে রয়েছে। তবে মামলাটি এখনো তদন্তাধীন থাকায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোচনা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে। পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে মতবিরোধের কারণে শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও চাপ তৈরি হয়েছে।

 

মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পরও ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি এবং পুনরায় সংঘাত শুরু হলে দেশটি পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হতে পারে।

 

দেশজুড়ে/সবুজ