তিতাসের সংযোগে জট: অপেক্ষায় ৫০০ শিল্প, নতুন আবেদন হাজার—গ্যাস ঘাটতিতে উৎপাদন কমছে ৪০% পর্যন্ত

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ১০:৪৪ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

দেশে গ্যাস সংকটের কারণে তিতাসের অনুমোদন পেয়েও দীর্ঘদিন ধরে সংযোগের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় ৫০০ শিল্প প্রতিষ্ঠান। এর পাশাপাশি নতুন করে আরও এক হাজারের বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান গ্যাস সংযোগের জন্য আবেদন করেছে। ব্যবসায়ী খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে শিল্প অর্থনীতি বড় চাপে পড়বে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যুৎ, শিল্প, পরিবহন গৃহস্থালিসহ বিভিন্ন খাতে দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা কমপক্ষে হাজার মিলিয়ন ঘনফুট। তবে সরবরাহ হচ্ছে হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটেরও কম। এর মধ্যে শিল্পখাতে, ক্যাপটিভ বিদ্যুৎসহ, ব্যবহার হচ্ছে প্রায় হাজার ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস।

 

তিতাস গ্যাস পিএলসির কর্মকর্তারা জানান, আগে অনুমোদন পাওয়া প্রায় ৪৮০টি শিল্প প্রতিষ্ঠান কমিশনিং পর্যায়ে আটকে আছে। এসব সংযোগ চালু করতে অতিরিক্ত ৩৭০ থেকে ৩৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন হবে। এছাড়া নতুন করে এক হাজারের বেশি আবেদন জমা পড়েছে।

 

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দফায় দফায় গ্যাসের দাম বাড়ানো হলেও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত হয়নি। অনেক কারখানা জ্বালানি সংকটে উৎপাদন সক্ষমতার তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম উৎপাদন করছে। এতে বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং রপ্তানি সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

 

খাতসংশ্লিষ্ট একাধিক সংগঠনের নেতারা দাবি করেন, গ্যাস সংকট নিরসনে দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। নতুন সংযোগ বা অবকাঠামো সম্প্রসারণে কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় শিল্পখাতে অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

 

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, স্থানীয় গ্যাস অনুসন্ধানে দীর্ঘদিন অবহেলার ফলেই উৎপাদন কমেছে। ছয় বছর আগে যেখানে উৎপাদন ছিল প্রায় হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট, বর্তমানে তা নেমে এসেছে প্রায় হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। তারা দেশীয় গ্যাসকূপ অনুসন্ধান জোরদার করা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং এলএনজি আমদানির অবকাঠামোবিশেষ করে ভাসমান সংরক্ষণ পুনর্গ্যাসীকরণ ইউনিট (এফএসআরইউ)—বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে এলএনজি আমদানিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় বিলিয়ন ডলার। গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পরও চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি বাবদ বরাদ্দ রয়েছে প্রায় হাজার কোটি টাকা।

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, টেকসই জ্বালানি নীতি দ্রুত বাস্তবায়নই পারে শিল্পখাতের স্থবিরতা কাটিয়ে অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে।


 দেশজুড়ে/সবুজ