নীতিমালার প্রভাবে কমল খেলাপি ঋণ, তবু প্রভিশন ঘাটতিতে উদ্বেগ রয়ে গেছে

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ০২ মার্চ ২০২৬ , ১১:৩৬ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে দেশের ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ডিসেম্বর মাসের শেষে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ পৌঁছেছে লাখ ৫৭ হাজার ২১৬ কোটি টাকায়, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৩০ দশমিক ৬০ শতাংশের সমান।

এর আগে সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল লাখ ৪৪ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে খেলাপি ঋণ কমেছে ৮৭ হাজার ২৯৮ কোটি টাকা।

 

খাতভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ দাঁড়িয়েছে লাখ ৪৬ হাজার ১০৭ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৪৪ দশমিক ৪৪ শতাংশ। অন্যদিকে বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ লাখ ৮৯ হাজার ৫৭৯ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ২৮ দশমিক ২৫ শতাংশ।

 

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গত সেপ্টেম্বরে ঘোষিত বিশেষ নীতিমালার প্রভাবেই এই হ্রাস দেখা গেছে। ওই নীতিমালার আওতায় মাত্র শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ১০ বছরের জন্য ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়া হয়, যেখানে প্রথম দুই বছর কিস্তি পরিশোধে ছাড় ছিল। পরে শর্ত আরও শিথিল করে মাত্র শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেওয়া হয়।

 

তবে খেলাপি ঋণ কমলেও ব্যাংক খাতের আর্থিক স্থিতি নিয়ে উদ্বেগ পুরোপুরি কাটেনি। তথ্য অনুযায়ী, লাখ ৪১ হাজার ৯০ কোটি টাকার বিপরীতে ব্যাংকগুলো প্রভিশন সংরক্ষণ করেছে লাখ ৪৯ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। ফলে প্রভিশন ঘাটতি রয়েছে লাখ ৯১ হাজার ৪৪১ কোটি টাকা।

 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুনঃতফসিলের মাধ্যমে খেলাপি ঋণের পরিসংখ্যান সাময়িকভাবে কমলেও দীর্ঘমেয়াদে ঋণ আদায়ের সক্ষমতা ব্যাংকের মূলধন শক্তিশালী করাই হবে বড় চ্যালেঞ্জ।


দেশজুড়ে/সবুজ