পরমাণু ইস্যুতে অচলাবস্থার পর পারস্য উপসাগরে মার্কিন নজরদারি জোরদার

দেশজুড়ে, ডেস্ক

দেশজুড়ে, ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ , ০২:৪২ পিএম

অনলাইন সংস্করণ

ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ না হওয়ায় পারস্য উপসাগর এলাকায় মার্কিন সামরিক নজরদারি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সূত্রে জানা গেছে।

 

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল ধাফরা বিমানঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এমকিউ-৪বিট্রাইটনড্রোন উড্ডয়ন করে উপসাগরীয় অঞ্চল, সৌদি আরব ইরাকের আকাশসীমার কাছাকাছি এলাকায় নজরদারি চালায়। সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সম্ভাব্য ঝুঁকি মূল্যায়নের লক্ষ্যেই এই ধরনের উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন ড্রোন মোতায়েন করা হচ্ছে।

 

এমকিউ-৪বি ট্রাইটন ড্রোনটি মার্কিন নৌবাহিনীর জন্য তৈরি। এটি প্রায় ৫০ হাজার ফুটের বেশি উচ্চতায় টানা একদিনেরও বেশি সময় উড়তে পারে। ৩৬০ ডিগ্রি রাডার ব্যবস্থায় সজ্জিত ড্রোন সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় নজরদারি, লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ এবং গতিবিধি অনুসরণে সক্ষম। সাম্প্রতিক সময়েও বিভিন্ন উন্মুক্ত ফ্লাইট-ট্র্যাকিং প্ল্যাটফর্মে ইরানের উপকূলসংলগ্ন এলাকায় অনুরূপ ড্রোনের উপস্থিতি দেখা গেছে।

 

এদিকে আঞ্চলিক কয়েকটি গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ড্রোনের পাশাপাশি মার্কিন নৌবাহিনীর পি-৮এ পসাইডন টহল বিমানও ইরানের আকাশসীমার নিকটবর্তী অঞ্চলে সক্রিয় রয়েছে।

 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক উপস্থিতি জোরদার করেছে। পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড মোতায়েনের খবর পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অঞ্চলের বিভিন্ন ঘাঁটিতে অতিরিক্ত সরঞ্জাম যুদ্ধবিমান প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।

 

অন্যদিকে ইরানও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সামরিক মহড়া চালাচ্ছে এবং প্রয়োজনে তা বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিচ্ছে। তবে উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেছেন, ইরান নতুন করে আলোচনায় বসতে আগ্রহী। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পূর্ববর্তী সংঘাতের পর তেহরান এখন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা সম্পর্কে অবগত।

উপসাগরীয় অঞ্চলে বাড়তে থাকা এই তৎপরতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পরিস্থিতি আরও জটিল আকার নেওয়ার আগেই কূটনৈতিক সমাধানের পথ খুঁজে বের করা জরুরি।